আর্টিকেলটি লিখেছেন রেজাউল কাবীর, সি ই ও, জলপাই ইলেকট্রনিকস

আইডিয়াটা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম বাল্যবন্ধু মোনুর অনুরোধে, যিনি একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। একদিন ফোন দিয়ে বলে “ব্যাটা এতসব সফিস্টিকেটেড জিনিস নিয়ে কাজ করছিস অথচ ছোট একটা প্রবলেম সল্ভ করতে পারছিস না!” বিষয় কি জানতে চাইলে উত্তরার দুর্ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, বছর খানেক আগেই উত্তরায় একটি দম্পতি দু-দুটি সন্তানসহ রান্নাঘরের গ্যাস নিঃসরণ জনিত দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে প্রান হারায়। রাতভর রান্নাঘরের চুলা থেকে গ্যাস নিঃসরণ হয়ে ঘর ভরে গিয়েছিলো। সকালে চুলা জ্বালাতেই ঘটে যায় দুঃখজনক এই দুর্ঘটনাটি।

খুবই সামান্য কারণে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি সারাদেশের সকলের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করলেও কিছুদিনের মধ্যেই আমরা তা ভুলে যাই। আমার বন্ধু বলে “এমন কিছু কী করা যায় না যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনার কথা আমাদের আর শুনতে না হয়?” বললাম, হ্যাঁ খুব সাধারণ একটি গ্যাস লিকেজ এলার্ম দিয়েই তো এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাজারেও খুব অল্প দামেই এ ধরনের অনেক চাইনিজ ডিভাইস পাওয়া যায়। বলতে বলতেই ভাবলাম তাহলে আমাদের ঘরগুলোতে এগুলো ব্যবহার করতে দেখি না কেন? একটু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এসব ডিভাইসের বেচা-বিক্রি খুব একটা বেশি না। আরও অবাক হলাম যখন জানতে পারলাম এসব ডিভাইসের বিক্রি বেশি না হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা কিন্তু মোটেও ছোট কিছু না। একটু ঘাটাঘাটি করে যে সংখ্যাগুলো পেলাম তাতে রাতের ঘুম হারাম না হওয়ার কোন কারণ ছিল না।

তিতাসের একটি সমীক্ষা মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা ২০১৩-১৪ সালে ছিল ৩,৮১৯টি। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১২৩-এ। ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞতাও বলছে একই কথা। এই হিসাব মতে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রতি ২ ঘণ্টায় ১টি! অর্থাৎ প্রতি দুই ঘণ্টায় আমাদের একটি পরিবার সম্মুক্ষিন হচ্ছে এধরনের একটি দুর্ঘটনার। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বিষয়টা কতটা ভয়াবহ।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে খবরের কাগজে শুধু বড় বড় ঘটনাগুলোই প্রকাশ পায়, আর বাকিগুলো পড়ে থাকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেকর্ড খাতায়। ফলে এতগুলো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও জনমনে সমস্যার গুরুত্ব এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না মোটেও। এ ব্যাপারে কথা বলা শুরু করলাম নানান মহলের বিশেষজ্ঞদের সাথে। এগিয়ে এলেন বার্ন ইনজুরি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেন এরকম দুজন ডক্টরেট বড় ভাই। সাহায্য করলেন নানা রকম তথ্য উপাত্ত দিয়ে।

এরপর আটঘাট বেঁধে কাজে নেমে পড়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় রইলো না। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমাদের টিম বানিয়ে ফেলল গ্যাস সেন্সর যুক্ত ছোট একটা সার্কিট। চট করেই দাঁড়িয়ে গেলো একটা ফাংশনাল প্রোটোটাইপ। নাম দিলাম #Sniffer, এর কাজ হবে গন্ধ শুঁকা আর বিপদ দেখলেই ‘বিপ’ করে চেঁচিয়ে উঠা। ডেমো দেখানোর জন্য সেটা খুব ভালোই কাজ করছিলো। অন্যদের মতামত নেয়ার জন্য সবাইকে দেখাতে শুরু করলাম। ভালো মন্দ দুরকম মতামতই পাচ্ছিলাম। এবার দেখার বিষয় হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে পণ্যটি কতটা আকর্ষণীয় হয়। কারণ পণ্য হিসেবে এটি ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে পুরো ব্যাপারটাই ভেস্তে যাবে। না হবে ব্যবসা, না হবে জীবন রক্ষা। তাই সঠিক সেবা দিতে হলে এটাকে বাণিজ্যিকভাবে সফল হতেই হবে।

শুরু করলাম কাস্টোমার এক্সেপ্টেন্স টেস্ট অর্থাৎ ক্রেতার কাছে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, ল্যাবে একটা প্রটোটাইপ বানানো আর বাণিজ্যিক ভাবে তা ক্রেতার কাছে গ্রহণযোগ্য করে বাজারজাত করা মোটেই এক কথা নয়। বাণিজ্যিক ভাবে সফল হতে হলে পণ্যের উপকারি বৈশিষ্ট্যের সাথে এর উপস্থাপনাও হতে হবে আকর্ষণীয়।

এনক্লোজার বা কেসিং বানাতে গিয়ে একটা ধাক্কা খেলাম। প্লাস্টিক ইনজেক্টেড মোল্ড নিয়ে কাজ করে এরকম বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠান থেকে স্যাম্পল নিয়ে কোন ভাবেই যুতসই মানের একটা কেসিং বানাতে পারলাম না। একেতো খুবই নিম্ন মানের প্লাস্টিক তার উপরে চড়া দাম। কিছুতেই পছন্দ হচ্ছিলো না। যেনতেন একটা কিছু করে নিজের পণ্যের মান কমাবো না এটা শুরু থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম। তাই তাক লাগানো একটা কিছু খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। পিন্টারেস্টে একটু ঘাটাঘাটি করেই পেয়ে গেলাম দারুন একটা আইডিয়া। ইলেকট্রনিক্স পণ্যের কাঠের কেসিং! সাথে নিজের আইডিয়া থেকে জুড়ে দিলাম এক্রিলিকের ‘জলপাই’ লোগো। এই কাজে সার্বক্ষনিক সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে এলো ফায়সাল নামের এক আর্কিটেক্ট ছোটভাই। তার অসাধারণ সৃজনশীলতা প্রোডাক্টের ডিজাইনে যোগ করে দিলো নতুন এক মাত্রা।

ব্রেন্ডিং এবং এস্থেটিক্সের ব্যাপারে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই খুবই অবহেলা প্রদর্শন করে থাকে। এ বিষয়ে ‘জলপাই ইলেকট্রনিক্স’ বরাবরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমাদের পণ্য, এর প্যাকেজিং দেখলেই বুঝতে পারবেন আমরা আমাদের ক্রেতাদের রুচিকে কতটা সম্মান দেখিয়েছি। যথাসম্ভব আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কতটা সফল হয়েছি তা আপনারাই বিচার করবেন।

সবকাজ যখন শেষের দিকে তখন হঠাৎ করেই ফাইনাল টেস্টিং এ ধরা পড়লো সার্কিটের ছোট ছোট কিছু ত্রুটি। যদিও সাধারণের চোখে ধরা পড়বে না এমন ত্রুটি, তারপরেও আমাদের চোখে যেহেতু ধরা পড়েছে তাই সেটা কোনভাবেই গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া যায় না। সবকিছু বিবেচনা করে প্রায় এক হাজার মাদারবোর্ড বাতিল করে দিলাম। অনেক টাকার লোকসান। আবার নতুন করে ডিজাইন করে দুইজন বিশেষজ্ঞের কাছে টেস্টিং এর জন্য পাঠালাম। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন দেশের অন্যতম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইলেক্ট্রিক্যালের হেড অফ ডিপার্টমেন্ট। অন্যজন আমার বাল্যবন্ধু ডঃ এনায়েত, যিনি বুয়েট থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই রিসার্চ এবং শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত। নিজেদের অস্বাভাবিক ব্যস্ততার ভিতরে এই দুইজনই ‘জলপাই’ এর জন্য অনেকটা সময় বের করে দিয়েছেন। নিজ নিজ ল্যাবে আলাদা আলাদাভাবে বিস্তারিত পরীক্ষার পর দুজনের কাছ থেকেই গ্রিন সিগন্যাল পেলাম। এইবার ফিরে এল সস্থি। একটা একটা করে প্রায় সবগুলো বাধা পেরিয়ে এলাম। এবার ফাইনাল প্রডাকশন।

প্রডাকশনের কাজ চলাকালিন ঘটে গেলো আরও দুটি বড় দুর্ঘটনা। ধানমুন্ডিতে রান্না ঘরের চুলা থেকে গ্যাস নিঃসরণের কারণে অগ্নি দগ্ধ হয়ে প্রান হারান একজন ভদ্রমহিলা। অন্যদিকে চট্টগ্রামে একই কারণে আগুনে পুড়ে জীবন দেন এক এসএসসি পরিক্ষার্থী এবং তার বৃদ্ধা দাদি। পত্রিকা পড়ে প্রতিজ্ঞা আরও মজবুত হলো। সমাধান করবোই ইনশা আল্লাহ্‌।

শুরু করলাম প্রি-অর্ডার নেয়া। আপনারা জানেন আমাদের দেশে ‘প্রি-অর্ডার’ অর্থাৎ পণ্য বাজারে আশার আগেই অর্ডার নেয়া একটি খুবই অচেনা বিষয়। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে মাত্র দু সাপ্তাহের ভিতরেই আমাদের নির্ধারিত স্টক শেষ হয়ে গেলো। অর্ডার অনুযায়ী ডেলিভারি দিয়ে কুলিয়ে উঠছিলাম না। অনেকে কল করে অভিমান অভিযোগ প্রকাশ করলে ক্ষমা চেয়ে সময় নিলাম। একে একে সবগুলো অর্ডার ডেলিভারি করে নতুন ব্যাচের প্রডাকশন শুরু করলাম।

প্রি-অর্ডারের অভাবনীয় সফলতার পর বাণিজ্যিক ভাবে কিভাবে পণ্যটি সফল হবে এবং কিভাবে বাজারজাত করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে, কিভাবে কাস্টমারের বাসায় গিয়ে ডিভাইসটি লাগিয়ে দেয়া যায় ইত্যাদি বিষয়ে নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছেন অনেক ভাই, বন্ধু এবং সমমনা প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেকটা পথ পাড়ি দেয়ার পর ‘জলপাই’ এখন আর একা নয়। সঙ্গী হয়েছে #GrameenPhone এবং #SDAsia, হাত বাড়িয়ে দিয়েছে #MicroEJ এর মত ইউরোপীয় হাইটেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, গন্তব্য এখনো বহুদূর। মাথায় গিজগিজ করছে অনেক অনেক আইডিয়া। একটি একটি করে চমক দিয়ে ঝলসে দিতে চাই পুর বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠা করতে চাই একটি অস্তিত্ব, proudly #MadeInDhaka

শুরুর দিকে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল পথে এগিয়ে, ভুল মানুষের সাথে কাজ করে সময় এবং টাকা দুটোই নষ্ট হয়েছে অনেক। একই সাথে শিখতে হয়েছে এবং কাজ করতে হয়েছে আমাদের। একটু একটু করে ‘জলপাই’ সব বাধা অতিক্রম করে সফলতার দিকে এগিয়েছে এবং একটু একটু করেই মনের মত টিম গড়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে প্রতিকূলতাগুলো নিজে থেকেই দুরে সরতে শুরু করেছে। আজ আমাদের পণ্য শত শত রান্নাঘরে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে যাচ্ছে। বিপদের গন্ধ পেলেই ‘বিপ’ করে চেঁচিয়ে উঠছে। দুদিন পরপরই যখন “Sniffer কাজ করেছে” জানিয়ে কাস্টমারের ধন্যাবাদ ম্যাসেজ পাই তখন আনন্দে চোখে পানি চলে আসে। হৃদয়ের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে একটি বাক্য, “আলহামদুলিল্লাহ্‌!”

অন্যান্য উদ্যোগক্তাদের প্রতি ক্ষুদ্র একটি অনুরোধঃ
সাহস করে বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানে এগিয়ে আসুন। স্থানীয় দুর্বল অবকাঠামোর কথা ভেবে পিছিয়ে থাকবেন না। বাধা দেয়ার মানুষের অভাব নেই। কিন্তু আপনার আইডিয়া যদি বাস্তবসম্মত হয় আর প্রচেষ্টা যদি অদম্য হয় তাহলে কেউ আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না। নিজের প্রচেষ্টায় জমে থাকুন এবং গড়ে তুলুন নিজের হাতে বানানোর আত্মবিশ্বাস। Bikroy ডট কমের সিইও মার্টিন আমাদের একটি দারুন কথা বলেছিলেন। আমিও আপনাদের সেই কথাটিই বলছি, “Go Big or Go Home”।

কৃতজ্ঞতাঃ 
স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স শিল্প বিকাশে আমাদের স্বপ্নের সাথে একাত্ম প্রকাশ করে শুরু থেকেই নানাভাবে উৎসাহ যুগিয়েছেন অনেকেই। কঠিন সময়ে মেরিন একাডেমীর একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার বড় ভাই এবং বুয়েটের বেশ কয়েকজন বড় ভাই ছিলেন লাইফ সাপোর্টের মত। মাসুম ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম। বুয়েটের আরেক বড় ভাই নাইম আহমাদ প্রায় প্রতিটি কাজেই আমাদের অভিবাকের মত হাত ধরে পথ দেখিয়েছেন, সংশোধন করেছেন। বাল্যবন্ধু, সহ-উদ্যোগক্তা এবং প্রাক্তন সহকর্মী ডঃ এনায়েত ‘জলপাই’ এর স্বপ্নের প্রতি যে উচ্চাঙ্গিক বিশ্বাস প্রদর্শন করেছেন তা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে দারুন ভাবে মজবুত করেছে। আরেক বাল্যবন্ধু শান্তু ছিল ‘জলপাই’ এর ছায়ার মত। আরেকজন হচ্ছেন তুরান ভাই, যিনি গত কয়েক মাসে সম্ভবত নিজের প্রতিষ্ঠানের চেয়েও ‘জলপাই’ এর জন্য কাজ করেছেন অনেক বেশী। আরও রয়েছে স্নেহের ছোটভাই এমরান এবং আনিস। বিশেষ করে আনিসের উপর দিয়ে প্রি-অর্ডারের সময় রীতিমত ঝড় বয়ে গেছে। বেচারা হাঁসি মুখে সকল যন্ত্রণা সহ্য করেছে। ‘জলপাই’ টিমের ল্যাব ইঞ্জিনিয়ার ফাইসুল এবং বিজনেস টিমের আতাউলের অমানুষিক পরিশ্রম এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া ‘জলপাই’ সম্ভবত কোন দিনই এই পর্যন্ত আসতে পারতো না। আর ‘জলপাই’কে যারা সবচেয়ে বেশী উৎসাহ যুগিয়েছেন তারা হচ্ছেন আপনারা, যারা আমাদের পণ্য ব্যবহার করে নিজের পরিবারের নিরাপত্তায় আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের সাহস যুগিয়েছেন এবং আমাদের স্বপ্নকে একধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। ‘জলপাই’ আপনাদের সকলের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। নিরাপদে থাকুক আপনাদের প্রতিটি পরিবার।

‘জলপাই’ এর ওয়েবসাইটঃ www.jolpi.io
হটলাইনঃ 01778-000044

SD Asia Desk