চার মাস ব্যাপী এক্সেলারেটর প্রোগ্রামের জন্য নতুন ব্যাচের উদ্বোধন করেছে  গ্রামীনফোন এক্সেলারেটর। প্রায় ৬০০ টি আবেদনপত্র থেকে প্রেজেন্টেশন, ফেস টু ফেস ইন্টার্ভিউয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত সেরা ছয়টি স্টার্টআপকে জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিচিতি করিয়ে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের টেক স্টার্টআপদের সাহায্য করার প্রয়াস নিয়ে এসডি এশিয়ার সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে জিপি এক্সেলারেটর(জিপিএ) প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করে গ্রামীনফোন। নির্বাচিত সেরা পাঁচটি স্টার্টআপ এই চার মাস ব্যাপী জিপিএ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা সিড ফান্ডিং,মেন্টরশিপ ছাড়াও জিপি হাউজে অফিস স্পেস ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এই সময়ের মধ্যে গ্রামীনফোন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় নিজেদের ব্যবসাকে আর বেশি এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে স্টার্টআপগুলো। প্রোগ্রামের শেষে ডেমোডেতে দেশ বিদেশের বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের ব্যবসাকে তুলে ধরার সুযোগ থাকছে এই সম্ভাবনাময় স্টার্টআপদের।

AA_L8612

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্যকালে আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, “ বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের স্টার্টআপদের সাহায্য করে আসছে জিপিও এক্সেলারেটর প্রোগ্রাম। এবারের নতুন ছয়টি স্টার্টআপও ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০২১ ভিশন বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে যাবে। স্টার্টআপগুলোর সাফল্য কামনা করছি”।

 

গ্রামীণফোনের সিইও পিটার বি ফুরবার্গ জানান, “জিপিএক্সেলারেটরের প্রতিব্যাচেই এখন আগের চেয়ে আবেদন পত্র অনেক বেশি পাচ্ছি আমরা।এবারের ৬০০ টি আবেদনপত্র থেকে অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর সেরা ছয়টি বাছাই করতে পেরেছি। এই স্টার্টআপগুলো আমাদের প্রতিদিনের সমস্যাকে খুব সহজেই সমাধান করে দেবে আমি আশাবাদ ব্যাক্ত করছি”।

গ্রামীনফোন ট্রান্সফরমেশনের প্রধান কাজি মাহবুব হোসেন জানান, “বাংলাদেশকে বিশ্বের স্টার্টআপ ম্যাপে তুলে ধরার লক্ষ নিয়েই আমরা একসাথে এই এক্সেলারেটর প্রোগ্রাম শুরু করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়  সেরা ৫০ টি আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতেই জিপি এক্সেলারেটর প্রোগ্রাম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”।

জিপি এক্সেলারেটর প্রোগ্রামের প্রধান মিনহাজ আনোয়ার জানান, “এবারের নতুন ব্যাচ-৩ কে বরণ করে নিতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি।হার্ডওয়ার, অগমেন্ট রিয়েলিটি, ফিনটেক এবং ডিজিটাল সলিউশন এইসব কিছুর মিশেল নিয়েই আসছে আমাদের নতুন দলগুলো।আমরা আশাকরছি নিজেদের সেবার মাধ্যমে এই স্টার্টআপগুলো বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবন যাপন সহজ, নিরাপদ এবং আনন্দময় করে তুলবে”।

 

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা কালে এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মুস্তাফিজুর রাহমান খান বলেন, “চার মাসব্যাপী প্রোগ্রামটির এবারের ব্যাচে নতুন সংযোজন হিসেবে ইন-হাউজ মেন্টরদের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং,প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজাইন সংক্রান্ত সুবিধাগুলো যোগ করা হয়েছে।মূলত বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করার লক্ষ নিয়েই দেশ সেরা এই জিপি এক্সেলারেটর প্রোগ্রাম সাজানো হয়েছে”।

 

এবারের সেরা পাঁচটি স্টার্টআপের সাথে যোগ হয়েছে একটি স্টার্টআপ। একনজরে দেখে নিতে পারেন স্টার্টআপগুলোকেঃ

ক্রাউডওয়ারঃ

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রাউডসোর্সিং ওয়ার্ককে একটি কোয়ালিফাইড কন্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিজনেস প্রসেসকে অটোম্যাট করতে সাহায্য করে ক্রাউডওয়ার। ইনোভেটিভ কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রাইসিং এবং রুটিন টাস্ককে খুব দ্রুত, কম খরচে এবং নির্ভুলভাবে করতে সাহায্য করে এই স্টার্টআপটি।

 

 

জলপাই ইলেক্ট্রনিক্স:

এলওটি এবং স্মার্টহোম ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্টসকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছে জলপাই ইলেক্ট্রনিক্স। নিরাপদ মাত্রা সীমার উপরে গ্যাস লিক করতে থাকলে অ্যালার্মের মাধ্যমে সনাক্ত করতে একটি অত্যাধুনিক ডিভাইস ‘স্নিফার’ তৈরি করেছে তারা।

ডক্টরকই ডটকমঃ

ডাক্তার এবং রোগীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকে অটোমেটিক প্রসেসে পরিণত করেছে ডক্টরকই ডটকম।প্লাটফর্মটি ব্যবহার করে যেকোনো রোগীই ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট খুব সহজেই নিতে পারবে।তাছাড়া রোগীদের তথ্য এবং যোগাযোগ করার ঠিকানাও থাকবে এই প্লাটফর্মে। এতে করে ডাক্তাররাও রোগীদের সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারে।

 

ব্যাংককম্পেয়ার বিডিঃ

ব্যাংককম্পেয়ার বিডির মাধ্যমে যেকেউ বিভিন্ন ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্টসগুলোকে তুলনা করতে পারবে এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভিস বেছে নিতে পারবে।অনেকগুলো ব্যাংক ঘুরে ঘুরে সার্ভিসগুলোকে যাচাই বাছাই করার প্রক্রিয়াকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে স্টার্টআপটি।

 

মাইক্রোটেকঃ

বাচ্চাদের পড়ালেখা শেখানোকে আরও ইনোভেটিভ এবং মজার করতে মাইক্রোটেক তৈরি করেছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি অ্যাপ্লিকেশন ‘নীলিমার বায়স্কোপ’। গুগল প্লেস্টোর এবং আইওএস প্লাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। কেউ যখন এই অ্যাপ ওপেন করে বইয়ের উপর ধরলে গল্পের চরিত্রগুলো থ্রিডি আকারে দেখা যাবে এবং অ্যাপটি নিজে থেকেই গল্পটি পড়ে শোনাবে।

বাড়িকইঃ

ঠিকানা খুঁজে বের করার সমস্যার সহজ সমাধান এনে দিয়েছে বাড়িকই। বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল বড়-বড় ঠিকানাকে একটি ছোট কোডে রূপান্তরিত করেছে বাড়িকই যা সহজেই জিও-করডিনেশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। তাছাড়া ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলোকে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং লজিস্টিক সহায়তাও প্রদান করে যাচ্ছে স্টার্টআপটি।

SD Asia Desk