কয়েক বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে দার্জিলিং ঘুরতে গিয়েছিলেন হাজ্জাজ ইমতিয়াজ। কিন্তু আগে থেকেই কোন প্ল্যান না থাকায় কিংবা কোন ট্যুরের প্যাকেজ না কেনায় খুব অগোছালো ভাবে সেবার দার্জিলিং ঘুরে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকেই ইমতিয়াজের মাথায় আসে ট্রাভেল ট্রিপ নিয়ে কোন স্টার্টআপ দেয়ার। জিপি অ্যাকসেলারেটরের দ্বিতীয় ব্যাচে সেরা পাঁচে থাকা স্টার্টআপ ঘুড়ির শুরুটা হয়েছিল এভাবেই।

ghuri

যারা দেশের ভেতরে কিংবা দেশের বাইরে ঘুরতে পছন্দ করেন তাদের জন্য মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করছে ঘুড়ি। কাস্টমারদের পারফেক্ট ট্রাভেল প্ল্যান, এয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং সলিউশন, ট্রান্সপোর্ট থেকে শুরু করে ট্যুরের সবকিছুর সমাধানই দিচ্ছে ঘুড়ি। ঘুড়ির প্রতিষ্ঠাতারা ইউরোপে বেশ কয়েক বছর থাকার কারণে, ইউরোপের অনেক দেশেই ট্যুরের সহজ সমাধান করে দিতে পারবে স্টার্টআপটি।

নিজেদের সাইটেই চ্যাট-বটের মাধ্যমেই কাস্টমারদের সেরা প্যাকেজটি নেয়ার সাজেশন দিচ্ছে স্টার্টআপটি।সেলস বাড়াতে এখন মার্কেটিং এবং ক্লায়েন্ট সার্ভিস আরও উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে ঘুড়ি।বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর এবং বিভিন্ন ধরণের হোটেলের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে ঘুড়ি।

নিজেদের অ্যাপ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে ঘুড়ি। সেই অ্যাপের মাধ্যমে যে কোন কাস্টমারই নিজেদের ভিসার কাজটি শেষ করে ফেলতে পারবেন। তাছাড়া দেশে কিংবা দেশের বাইরে ট্যুরের পাশাপাশি ঢাকার আশেপাশে ১/২ দিনের ট্যুরেরও ব্যবস্থা করছে ঘুড়ি। এমনকি ঘুড়ি কাস্টমারদের নিজেদের পছন্দমত কাস্টোমাইজ করার অপশনও দিচ্ছে।

প্রতিদিনই ঘুড়ির সাইটে ভিজিটরের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া নিজেরাও প্রতিদিন প্রায় দুটি করে বিজনেস পার্টনার বানাতে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমানে ঘুড়ি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্যবহার করে নিজেদের কাস্টমারদের খুঁজে পাচ্ছে।

img_7668-1024x788

ফান্ডিং এবং সঠিক মেন্টরশিপ পেতেই জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামে আবেদন করেছিল স্টার্টআপটি। প্রোগ্রামে যোগদানের পর স্টার্টআপটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানান ইমতিয়াজ। ‘মার্কেটিং, সেলস, টিম বিল্ডিং এবং ম্যানেজমেন্টের অনেক কিছুই আমরা এই প্রোগ্রাম থেকে শিখেছি। বাংলাদেশের ক্রেতাদের ধরণ অন্য দেশের ক্রেতাদের থেকে অনেক আলাদা। তাই সব দিক থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুড়িকে একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি হিসেবেই দেখতে চাই আমরা’।

 

বাংলাদেশের কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে বেশ কিছু ঝামেলা পেরোতে হচ্ছে ঘুড়িকে। ঘুড়ির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ইন চার্জ সৈয়দ রাজু হোসেন জানান, ‘কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে আমাদের অনেক বেশী মার্কেটিং বাজেট রাখতে হচ্ছে। কিন্তু একটা স্টার্টআপের জন্য শুরুর দিকেই এত বাজেট রাখা আসলেই সম্ভব হয়না।সেদিক থেকে জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রাম আমাদেরকে সিড ফান্ডিং, মেন্টরশিপ এবং অফিস স্পেস দিয়ে অনেক ভাবেই সাহায্য করছে’।

xs

খুব তাড়াতাড়ি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় ট্রাভেল স্টার্টআপটি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি ট্রাভেল সলিউশন কোম্পানি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হতে চায় ঘুড়ি। শুধু তাই নয় দেশ এবং দেশের বাইরে পরিচিতি পাওয়ার মত নতুন করে বেশ কিছু সেবাও চালু করার পরিকল্পনা করছে ঘুড়ি।

 

SD Asia Desk