সারা পৃথিবীতেই অফিসের কাজ কিংবা যেকোনো তথ্য এখন ডেটা প্রসেসিং ইউনিটে সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। কাজের পরিসর বেড়ে যাওয়ায় তথ্য খুঁজে পেতে এখন ডেটা অ্যানালেটিকাল প্লাটফর্মের প্রয়োজন হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। তাই ডেটা ইউনিট সামলাতে টেকনিক্যাল অভিজ্ঞ লোকের দরকার হচ্ছে। ক্র্যামস্টেক সেই কাজটিই আরও সহজ করে দিচ্ছে।

kv-e1476785193572

বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সার্চ ড্রাইভেন ডেটা অ্যানালিটিকাল প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে ক্র্যামস্টেক।আর তাই যারা টেক সম্পর্কে অনেক কম জানেন তারাও ক্র্যামস্টেক ব্যবহার করে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

ডেটা সম্পর্কে টেকনিক্যাল অভিজ্ঞতা ছাড়াই যে কাউকে বিজনেস ডেটা বিশ্লেষণের কাজ সহজ করে দেয়াটাই ক্র্যামস্টেকের মূল লক্ষ্য। কয়েক ঘণ্টার ডেটা বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সমাধান করে দিচ্ছে ক্র্যামস্টেক।

এসডি এশিয়া এবং গ্রামীনফোনের যৌথ পরিচালনায় ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের সেরা পাঁচে থাকা একটি স্টার্টআপ হল ক্র্যামস্টেক। এই প্রোগ্রাম থেকেই ক্র্যামস্টেক চার মাসের জন্য জিপি হাউজে অফিস স্পেস, মেন্টরশিপ এবং সিড ফান্ডিং পাচ্ছে।

সম্প্রতি ক্র্যামস্টেকের সিইও এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা মির নাজমুস সাকিব এসডি এশিয়ার সাথে কথোপকথনে স্টার্টআপটির লক্ষ্য, স্বপ্ন এবং প্রোগ্রামটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

img_7698-e1476784933916

সাকিব জানান, ‘বিটুবি সার্ভিস হিসেবে আমরা আমাদের স্টার্টআপটি নিয়ে আরও বেশী বিজনেস ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছি। নিজেদের আইডিয়াকে আরও ভালভাবে বাস্তবায়ন এবং ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিতেই আমরা ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামে আবেদন করেছি’।

শুরুতেই ব্যবসাকে গুছিয়ে নিতে বেশ ঝামেলায় পড়েছিল সাকিব। যখন কোন আইডিয়াকে ব্যবসায় রূপান্তর করা হয় তখনই অনেক ধরণের সমস্যা প্রকাশ পায়। কিভাবে সব সমস্যা পার হয়ে ব্যবসাকে ভাল অবস্থানে দাঁড় করাতে হবে অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রাম থেকে সেটাই শিখছে স্টার্টআপটি।সাকিব জানান, একটি লক্ষ্যকে টার্গেট করে দলের সবাইকে কিভাবে ছোট ছোট কাজ ভাগ করে এগিয়ে যেতে হবে সেটাই শেখাচ্ছে এই প্রোগ্রাম।

img_7704-e1476785294291

নিজেদের দল সম্পর্কে ক্র্যামস্টেকের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামিউল ইসলাম জানান, ‘আমাদের দলটি এখন বিভিন্ন ধরণের কাজে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে।আর এই প্রোগ্রাম থেকে আমরা আরও শিখছি কিভাবে পুরো দল মিলে একসাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে’।

তিনি আরও জানান, বিজনেস ইন্টিলিজেন্ট প্লাটফর্মের প্রথম কাজ হল ফিচারগুলোকে কাজ করানো। এরপর ফিচারকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করে যেতে হচ্ছে তাদের।

ক্র্যামস্টেক পরিকল্পনা করছে তাদের পুরো ডেটা প্রসেসিংকে ক্লাউড প্লাটফর্মে নিয়ে যেতে। সাকিব, সামিউর ছাড়াও স্টার্টআপটির বিজনেসের ডেটাকে আরও বেশী সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন আরও দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা হাসিব মাহমুদ এবং রিদওয়ানুর রাহমান।

 

অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামে থাকা বিভিন্ন মেন্টর সেশনে অংশ নিচ্ছে ক্র্যামস্টেক।ট্যাগ মেন্টরদের কাছ থেকে ব্যবসার টার্গেট ক্লায়েন্ট এবং বিজনেস মডেলকে আরও সমিদ্ধ করার বিভিন্ন টিপস পাচ্ছেন তারা। কিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পনী থেকে নিজেদেরকে আলাদা ভাবে পরিচিত করিয়ে নিতে হবে সেসব পরিকল্পনাও পাচ্ছেন বিভিন্ন মেন্টর সেশন থেকে।

 

ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং বিজনেস ইন্টিলিজেন্ট নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপটি এরই মধ্যে বেশ কিছু বিজনেস ক্লায়েন্টদের নজর কারতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই স্টার্টআপটি দুটি বিজনেস ক্লায়েন্টকে নিজেদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় রয়েছে আরও ৭টি বিজনেস ক্লায়েন্ট। নিজেদের সেবার পরিধি আরও বাড়িয়ে বিজনেস ক্লায়েন্টের সংখ্যা বাড়ানোই এখন স্টার্টআপটির মূল লক্ষ্য। নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সাকিব জানান, ‘এই অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রাম থেকে নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই আমরা। সেই সাথে প্রোগ্রামের শেষে আমাদের ক্লায়েন্ট লিস্টটাকেও আরও বেশী লম্বা দেখতে চাই’। শুধু তাই নয় দেশের মধ্যেই নিজেদের স্টার্টআপকে নিয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন সাকিব।

SD Asia Desk