ফেসবুক প্লাটফর্মের মাধ্যমে মোবাইল হেডফোন এবং হ্যান্ডসেট বিক্রি করছেন উদ্যোক্তা আদনান। কিন্তু খুব বেশী টাকার বিনিয়োগ না থাকায় ব্যবসায় নিজস্ব ডেলিভারি সার্ভিস চালু করতে পারছেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শায়লা সকালে ঢাকার জ্যাম ঠেলে অফিসে আসেন। সঠিক সময়ে  পৌঁছাতে যেয়ে সকালে তার প্রিয় এক কাপ কফি না খেয়েই অফিস ছুট দেন।

ই-কমার্স ব্যবসার ম্যানেজার হৃদয় অনেক দিন ধরেই নির্ভরযোগ্য লজিস্টিক পার্টনার খুঁজছিল। কিন্তু বাংলাদেশী কনসিউমারদের ডিমান্ড বুঝে কাজ করার মত মতো কোন পার্টনারকেই খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

এই তিন জনেরই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে গো বিডির লজিস্টিক প্লাটফর্ম ‘গো!ফেচ’। গত বছর ধরেই এই ধরণের সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছে ফেচ। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করার পর, টেকনোলজি এবং ডাটা ব্যবহার করে লজিস্টিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে গোবিডি।

ফেচের শুরুঃ

3

অনলাইনে পণ্য অর্ডার নিয়ে খুব বেশী ভাল অভিজ্ঞতা ছিল না  গো-বিডির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিটিও সাগতা প্রতীকের। তাই নিজে থেকেই টেকনোলজি এবং ডাটা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ভাল লজিস্টিক প্লাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। প্রতীক জানান, ‘আমরা অ্যাকটিভ ট্র্যাকিং এবং কাস্টম ডিজাইন অ্যালগরিদম সার্ভিসের মাধ্যমে কাস্টমারদের সেরা ডেলিভারি সার্ভিস প্রদান করতে চাই’।

গোবিডির সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার তারেক আজিজ জানান, ‘আমরা আমাদের প্রত্যেকটি টেকনিকাল বিষয় নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করছি। আর তাই বিজনেস ক্লায়েন্টসদের কাছেও সেরা সেবা পৌঁছে দিতে পারছি’।

গো-বিডির সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং সিওও ফারহান রাহমান জানান, ‘ বাংলাদেশে এখন অনেক বেশী ই-কমার্স এবং ফেসবুক-কমার্স সাইট রয়েছে। কিন্তু এসব সাইটের লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন। তাই আমাদের পার্টনারদের ব্যবসা বাড়াতেও কাজ করছি আমরা। তাই ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের নির্ভরযোগ্য লজিস্টিক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে ফেচ এখন প্রস্তুত’।

শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জঃ

go-2

ফেচের যাত্রা কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। শুরুতেই নিজেদের পরিবার এবং বন্ধু মহল থেকেই ফেচের প্রথম দিকের ক্লায়েন্টদের পেয়েছিল।শুরুতেই তাদের কাছে নতুন এই সেবার কথা বোঝাতে এবং নতুন বিজনেস ক্লায়েন্ট পেতে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছে তারা।

বাংলাদেশের সব ধরণের ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে একটি ইউনিক নাম্বার নিয়ে সামাজিক সাইট হোয়াটসঅ্যাপে কল নেয়া শুর করে ফেচ।

 

ফেচ ওয়েব অ্যাপঃ

gob

ফেচ ওয়েব অ্যাপের মাধ্যমে যেকোন ব্যবহারকারী যে কোন অর্ডার করতে পারবে।এক অ্যাপ থেকেই রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারী এবং ইলেকট্রিক স্টোর থেকে শুরু করে সব কিছুই অর্ডার করতে পারবে যেকোন ব্যবহারকারী। ইটিএ এবং ডেলিভারি টাইমসের মাধ্যমে কনসিউমার এবং বিজনেস ক্লায়েন্টদের সেরা সার্ভিস দিতেই কাজ করে যাচ্ছি।

গো-বিডির সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও কাসিম রানা জানান, ‘আমরা কনসিউমার এবং বিজনেসপার্টনারদের সব ধরণের সাহায্য করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের বেশ কিছু বড় ই-কমার্স প্লাটফর্মের সাথে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।আর লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া আসলেই বেশ কঠিন। তাই আমারা আমাদের যতটুকু রিসোর্চ আছে সবটুকু দিয়েই কাস্টমারদের সাহায্য করে যাচ্ছি’।

 

ফেচ এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরাঃ

gob-2

লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করা শুধু ফেচই নয় আরও অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে। বিটুবি এবং বিটুসি অর্গানাইজেশনের মধ্যে ই-কুরিয়ার, পাঠাও, ফুডপান্ডা, হাংরিনাকি, গোগোবাংলা সহ আরও বেশ কিছু স্টার্টআপ রয়েছে। কাসিম জানান, বাংলাদেশে লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়ার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও নিজেদেরকে সেরা হিসেবেই দেখতে চায় ফেচ।

অনেকগুলো অপশন থেকে পছন্দের লজিস্টিক প্লাটফর্ম বেছে নেয়ার সুবিধা থাকায় স্থানীয় কনসিউমাররা সবচেয়ে উপকৃত হচ্ছে। কাস্টমারদের কাছে সেরা সেবা পৌঁছে দেয়াটাই এখন এসব লজিস্টিক প্লাটফর্মদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লজিস্টিক প্লাটফর্ম গুলোকে বেড়ে উঠতে হলে বিনিয়োগেরও প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই নিজেদের যতটুকু ক্যাপিটাল রয়েছে তার সবটুকু নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি স্টার্টআপটি।

অনেক লজিস্টিক প্লাটফর্মই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে কিংবা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শর্ত নিয়ে অনুদান পাচ্ছে। কিন্তু শর্তানুযায়ী ব্যবসাকে খুব বেশী লাভজনক করতে যেয়ে অনেক বেশী লোকসান করে শেষমেশ স্টার্টআপটি বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের লজিস্টিক প্লাটফর্মগুলো সফলতা পেতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী উদ্যম নিয়ে কাজে নেমেছে। তাই লজিস্টিক প্লাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর সফলতার সম্ভাবনাও বেড়ে যাচ্ছে।

SD Asia Desk