জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামে চার মাস কাটিয়ে সেরা পাঁচটি স্টার্টআপ তাদের ব্যবসাকে ইনভেস্টরদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।১০০রও বেশি ইনভেস্টর এবং প্রোফেশনালস উপস্থিত ছিলেন আজকে ঢাকার জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে।

জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামের যাত্রা সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে ইভেন্টি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি।

ইন্ট্রো সেশনের আগে ‘স্টার্ট আপ বাজার’ নামে একটি সেশন শুরু হয়।সেখানে, জিপি অ্যাকসেলারেটর টিম গুলোর সাথে ইন্ট্রো সেশনে অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল।

অক্টোবর ২০১৫ থেকে বাংলাদেশের সেরা টেকনোলজি স্টার্ট-আপদের অ্যাকসেলারেট করার জন্য গ্রামীণফোনের সাথে এসডি এশিয়া যুক্ত হয়ে ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করে।‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের জন্য কয়েকশ’ স্টার্ট-আপ অ্যাপ্লিকেশন থেকে ইন্টার্ভিউ, ডেমো প্রেজেন্টেশন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাছাই শেষে ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামের জন্য সেরা পাঁচটি স্টার্ট-আপকে বাছাই করা হয়েছে।

‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রামের জন্য সেরা ৫টি স্টার্টআপ(এনোভেশন,ক্যান্ডি,শেয়ার,সেবা,রেপ্টো) প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ১০ লক্ষ্য টাকার বেশী করে পেয়েছেন। এছাড়াও তারা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় ‘জিপি হাউজে’ তাদের প্রকল্প নিয়ে কাজ করার জন্য অফিস স্পেস পেয়েছেন।

এনোভেশনঃ

যে কোন ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট ডিজাইনের কাজ করে থাকে এনোভেশন।

ক্যান্ডি:

ব্যবহারকারীদের লক স্ক্রিনে কন্টেন্ট নিয়ে আসার মত বুদ্ধিমান একটি অ্যাপের মত কাজ করে যাচ্ছে ক্যান্ডি।

শেয়ার ইংকঃ

ঘুরে বেড়ানোর জন্য পুরো ঢাকা শহরের মধ্যে কারপুলিং সেবা দিয়ে থাকে শেয়ার ইংক।

সেবাঃ

ঘরের সব কাজের সহযোগিতা করে থাকে সেবা। দক্ষ প্রফেশনালদের মাধ্যমে ঘরের ওয়াই-ফাই কানেকশন, ইলেক্ট্রনিক পণ্য থেকে শুরু করে পানির কল ঠিক করার সেবাও নিশ্চিত করে সেবা।

রেপটোঃ

অনলাইন কোর্সের মার্কেট-প্লেস হিসেবে কাজ করে রেপটো। এখান থেকেই যেকোনো কোর্সের লেসন, ওয়েব টুল এবং অনলাইন কোর্স ডাউনলোড করে নিতে পারবে যে কোন ব্যবহারকারী।

ডেমোডে সম্পর্কে এসডি এশিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালী জানান, ‘স্টার্টআপগুলো তাদের ব্যবসা কতটুকু এগিয়েছে সেটাই দেখা যাবে ডেমো ডেতে। তাছাড়া শেষ চার মাসে কতটুকু এগিয়েছে সেটাও দেখা যাবে ডেমোডেতে। তাদের উন্নতিতে আমি নিজেও অভিভূত’।

সেরা ৫টি স্টার্টআপ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ১০ লক্ষ্য টাকার বেশী করে পেয়েছে। এছাড়াও তারা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় ‘জিপি হাউজে’ তাদের প্রকল্প নিয়ে কাজ করার জন্য অফিস স্পেস পেয়েছেন।

জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামের প্রোজেক্ট হেড ফয়সাল কবির জানান, ‘ আমরা সত্যিই অনেক খুশি যে জিপি অ্যাকসেলারেটরের প্রথম ব্যাচ তাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। প্রোগ্রামের শুরুর তুলনায় এখন তারা ১০০% ভাগেরও বেশি পরিমাণ উন্নতি করেছে। এসডি এশিয়ার সাথে পার্টনারশিপ করে শেষ চার মাসে আমাদের স্টার্টাআপগুলো অনেক কিছুই শিখেছে’।

জিপির হেড অফ ট্রান্সফরমেশন কাজী মাহবুব হাসান জানান, ‘ শেষ চারমাসে কেমন সেশন চলেছে আর কতটুকু উন্নতি হয়েছে সেটাই দেখা যাবে ডেমোডেতে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য এই প্রোগ্রাম খুবই কার্যকর। গ্রামীণফোনের ‘অ্যামপাওয়ারিং সোসাইটিস’ ভিশনকে এই প্রোগ্রাম পরিপূর্ণ করেছে’।

এরই মধ্যে এসডি এশিয়া অনেক গুলো মেন্টর সেশন আয়োজন করেছে জিপি অ্যাকসেলারেটর ব্যাচের জন্য। অনেক মেন্টর এবং এক্সপার্ট অংশ নিয়েছেন এসব সেশনে।

জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রাম সম্পর্কে এসডি এশিয়ার সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফিজুর রাহমান খান জানান, ‘গ্রামীণফোনকে সাথে পেয়ে জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রাম শুরু করতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত। এই প্রোগ্রাম শুধু স্টার্টআপদের জন্যই নয়, জিপিও এখন বুঝতে পারছে এদেশের ডাটা এবং টেক নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপগুলোর বর্তমান অবস্থা। আগস্টে নতুন ব্যাচ নিয়ে কাজ করতে আমরা মুখিয়ে আছি’।

জিপি অ্যাকসেলারেটর ডেমো ডেতে স্টার্টআপগুলো সোশাল মিডিয়া স্পেশালিষ্ট, উদ্যোক্তা এবং দেশী-বিদেশী ইনভেস্টরদের সামনে তাদের প্রোজেক্ট দেখানোর সুযোগ পেয়েছে।