স্টার্টআপ কমিউনিটির জন্য কি করা যায় সেই কথা আলোচনা করতে করতেই তিন বছর আগে স্টার্টআপ ঢাকার যাত্রা শুরু করি।স্টার্টআপ কমিউনিটির অনেকেই আমাদেরকে ছয় দিনব্যাপী স্টার্টআপ ইভেন্ট ‘স্টার্টআপব্যাশ’ আয়োজন করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছিল। এরপর আমরা ‘স্টার্টআপ ঢাকা’ নামে ডকুমেন্টারি দিয়ে সাড়া পৃথিবীর মানুষের কাছে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

তার পরের ধাপেই আমাদের চিন্তা করতে হয়েছে বাংলাদেশের স্টার্টআপদের সম্ভাবনা নিয়ে।ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে গড়ে তুলতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দরকার।বাংলাদেশের মানুষ কোন কিছুর শুরুতেই নিজ দেশের সরকারের দোষারোপ করতে থাকে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, টেক স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের তুলে ধরতে অনেক পদক্ষেপই নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

আমরাও মনে করি,বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারী-বেসরকারি পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরী।আশা করছি সরকারী এবং বেসরকারি সাহায্য নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে পারব।সেজন্য একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমারা। আমাদের ভিশন হল, ‘২০২০ সালের মধ্যে ১০টি কোম্পানির সাথে ২০০টি স্টার্টআপ তৈরি করা যাদের বাজার মূল্য হবে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের।শুধু ভিশন ঠিক করলেই হবে না, আমরা কাজে বিশ্বাস করি। কঠোর পরিশ্রম করে আমারা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে বেশ কিছু পরামর্শও দিচ্ছি আমরা।

ট্যাক্স ইনসেনটিভ

ট্যাক্স ইনসেনটিভ যেকোনো উদ্যোক্তাকেই নতুন করে রিস্ক নিতে উৎসাহী করে। লোকাল মার্কেটে টিকে থাকতে হলে ট্যাক্স ইনসেনটিভ বেশ কাজে লাগবে।

স্টার্টআপদের ফান্ড সংগ্রহ করতে সরকারী সহায়তা

সিঙ্গাপুর সরকার বিজনেস অ্যানজেল স্কিম(বিএএস) নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে যাতে করে অ্যানজেল ইনভেস্টরদের কাছ থেকে নতুন উদ্যোক্তারা ১.৩২ মার্কিন ডলার সমমানের ফান্ডিং পেয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারেরও ইনোভেশন ফান্ড নামে এমন একটি ফান্ড রয়েছে, কিন্তু এটি স্টার্টআপ কমিউনিটির কাছে খুব বেশী পরিচিত নয়। খুব দ্রুতই এটি স্টার্টআপ কমিউনিটির কাছে পরিচিত করে তুলতে হবে।

অঞ্চলভিত্তিক কনেক্টিভিটি

ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালায়শিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের মত দেশগুলোর স্টার্টআপ কমিউনিটি অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।সরকারীভাবে এসব কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করতে পারলে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এসব কমিউনিটি এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে আমাদের যোগাযোগ ভাল হলে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য ভাল কিছু হবে বলেই মনে করছি আমরা।

উদ্যোক্তা তৈরিতে পাঠ্যবই

পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসেও যোগ করতে হবে নতুন ব্যবসা এবং নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বেশ কিছু চ্যাপ্টার। হাতে-কলমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং ডিজিটাল ব্যবসা সম্পর্কেও ধারণা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। আইসিটি এবং আইসিটি সংক্রান্ত চাকুরীর ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন টেক কোম্পানিতে ছাত্রদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেক স্টার্টআপগুলোও মেধাবী তরুণদের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।এভাবেই টেক কোম্পানি এবং মেধাবী তরুণরা দেশকে এগিয়ে যেতে পারবে।

স্টেক হোল্ডারদের সহায়তা

আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিকম কোম্পানি এবং সার্ভিস কোম্পানিদের সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০টি স্টার্টআপের বাজারমূল্য গিয়ে দাঁড়াবে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের। টেলিকম কোম্পানিগুলোর ডাটা সার্ভিস এবং কলরেট কমাতে হবে। এমনকি বিভিন্ন ইন্টারনেট প্রোভাইডার এবং সার্ভিস প্রোভাইডারদেরকে তাদের ব্যবসাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে।

বাংলাদেশে আরও বেশী নির্ভরযোগ্য ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম’ চালু করতে হবে।দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম’ সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান করতে হবে একেবারে শুরু থেকে।আমরা বিশ্বাস করি, আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং সরকারী-বেসরকারি সহযোগিতায় বাংলাদেশের স্টার্টআপদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে।

Mustafizur Rahman Khan