যারা ফান্ডের অভাবে কিংবা সঠিক মেন্টর না থাকায় টেক ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না তাদের জন্য এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোন চালু করেছে ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রাম। বাংলাদেশের তথ্য এবং প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপদের উন্নয়ন প্লাটফর্ম হতে যাচ্ছে এই নতুন প্রোগ্রাম। নতুন টেক উদ্যোক্তারা দেরি না করে ৩১ ডিসেম্বরের আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নিন।কারণ এরপরই শুরু হয়ে যাবে প্রথম পর্বের কার্যক্রম।যাচাই-বাছাইয়ের পর আপনার স্টার্টআপটি টিকে গেলেই মিলে যাবে দারুণ কিছু সুযোগ।

Final-Cover1

নতুন সব টেক স্টার্টআপদের সুযোগ করে দেবে ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ প্রোগ্রাম। এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোনের মধ্যকার চুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই চুক্তির মধ্যে দুই সেশনের ট্রেনিং পর্ব থাকবে।প্রথম পর্ব শুরু হবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরেরটি শুরু হবে একই বছরের জুনে। প্রতিটি সেশনে সেরা ৫টি স্টার্টআপ বাছাই কর হবে। সেই প্রক্রিয়ার শেষে ডেমোডে তে তাদের প্রজেক্ট গুলো বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত প্রকল্প গুলো প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ১১ লক্ষ্য টাকারও বেশী পাবেন। এছাড়াও তারা গ্রামীনফোনের প্রধান কার্যালয় ‘জিপি হাউজে’ তাদের প্রকল্প নিয়ে কাজ করার জন্য অফিস স্পেস পাবেন।তাছাড়া চার মাস ব্যাপী ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’প্রোগ্রামের বুটক্যাম্পের একটি অংশ হল ডেমোডে। এখানে আপনি আপনার প্রোজেক্টকে বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হবে সম্ভাবনাময় টেক স্টার্ট-আপ গুলো সঠিক মেন্টরশিপ এবং ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া।

Gp-Collage

এসডি এশিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি জানান, ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামের মাধ্যমে নতুন টেক স্টার্টআপগুলো গ্রামীণফোনের টুলস ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এতে করে ভবিষ্যতে অনেক কম সময়ের মধ্যে তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে’।

টেক নিয়ে কাজ করছে যেকোনো স্টার্টআপই এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন।‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’সম্পর্কে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ফয়সাল কবির জানান, ‘গ্রামীণফোন এখন ডিজিটাল সার্ভিস দেয়া প্রোজেক্টগুলোকে সাহায্য করতে চায়।বাংলাদেশের সব উদীয়মান টেক ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে গ্রামীণফোন। সম্ভাবনাময় সব উদ্যোক্তা এবং টেক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে গ্রামীণফোনও বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সমাজের অংশ হতে চায়’।

পহেলা নভেম্বর থেকে গ্রামীণফোনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল। অনেক টেক প্রতিষ্ঠানই এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে।রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা ঢাকা কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিন্টু হোসেন জানান, ‘বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এখনও সংগঠিত হয়ে ওঠেনি।সিড ফান্ডিং, এক্সপার্টদের মেন্টরশিপ এবং ডেমোডে’র সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে পারব’।

আপনার টেক প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন করার যোগ্যতা,

-শুরুর দিকের টেক স্টার্টআপ হতে হবে

-প্রকল্পটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে হতে পারে

-নিজস্ব প্রোডাক্ট/ অন্য দেশের সার্ভিস ব্রাঞ্চ হতে পারে

-বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা কোম্পানি হতে হবে

-অন্তত একটি প্রোটোটাইপ থাকতে হবে যা উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে

-অন্তত এক জন ‘জিপি হাউজে’ ফুল-টাইম কাজ করার জন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা থাকতে হবে

১৮ বছরের বেশী যেকোনো দেশের, যেকোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার নারী/পুরুষ আবেদন করতে পারবেন এই প্রোগ্রামের জন্য। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সেরা ৫টি স্টার্ট আপ খুঁজে নেবার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করবে এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোন।আবেদন করতে ভিজিট করুন- http://www.grameenphoneaccelerator.com/।আবেদন করার শেষ তারিখ-৩১ ডিসেম্বর ২০১৫।