বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা চিন্তা করছিল।কিন্তু বাংলাদেশের একার পক্ষে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা কষ্টসাধ্যই হয়ে পড়ে। এবার সেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেই সাহায্য করতে চাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।একই সঙ্গে সার্ক স্যাটেলাইটের বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাচ্ছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দু’দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত উন্মুক্ত বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাংলাদেশকে সরাসরি সহযোগিতা করতে ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মোদি। বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র মনে করেই সাহায্য করতে ভারত প্রস্তুত বলে জানান তিনি।বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করা হবে।

গত নভেম্বরে কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময় এ অঞ্চলের জন্য অভিন্ন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোদি।তার যুক্তিতে ছিল অভিন্ন স্যাটেলাইট হলে আবহাওয়ার খবর জানতে সুবিধা হবে কৃষিভিত্তিক কাজ করা শ্রমিকদের। অন্যদিকে পারস্পারিক যোগাযোগ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রে এ স্যাটেলাইট বড় অবদান রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

তবে সার্ক স্যাটেলাইট বিষয়ে ইতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সার্কের আরেক দেশ পাকিস্তান।বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও পাকিস্তানের বাঁধার পরেও ভারত এ স্যাটেলাইট নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।

তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই সার্ক স্যাটেলাইট প্রশ্নে সিদ্ধান্ত জানানো উচিত বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও।

 

কারণ ভারতের প্রস্তাবিত সার্ক স্যাটেলাইট এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাঝে সমস্যা থাকতেও পারে।দুটি স্যাটেলাইটর ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ ১২ দশমিক ৭৫ থেকে ১৩ দশমিক ২৫ গিগাহার্জ থাকার কারণে স্যাটেলাইট দুটির মধ্যে কারিগরি দিক থেকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে বলে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

আর তাই এরই মধ্যে সাবধানী অবস্থান নিয়েছে বিটিআরসি।এ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কারিগরি ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি ভেবে দেখার কথা বলেছে বিটিআরসি।

প্রস্তাব অনুসারে ভারত স্যাটেলাইটটি নিজেদের খরচে তৈরি, উৎক্ষেপণ এবং ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সব কাজ করবে। ভারতীয় হাইকমিশন এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারসহ সার্কভূক্ত সবগুলো দেশকেই চিঠি দেয়।চিঠিতে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এ সমর্থন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নে অরবিটাল স্লট পেতে সহায়তা করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এবিষয়ে কিছুটা না বাচক মনোভাব শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও।

বাংলাদেশের সমর্থন নিয়ে সার্ক স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্লট বরাদ্দের পর বঙ্গবন্ধু-১ এর সঙ্গে কারিগরি সমস্যা হলে জটিলতা দেখা দেবে। তখন আইটিইউই বলবে, বাংলাদেশের সমর্থনেই এটি করা হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ এ বিষয়ক আলোচনায় পিছিয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা।

Tousif Alam