সকাল বেলা খবরের কাগজে চোখ না বুলালে অনেকেরই দিন যেন শুরু হতে চায় না। সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে খবর না দেখে ঘুমালে রাতের ঘুমটাও যেন অসম্পূর্ণ থাকবে। খবর পড়ে, শুনে বা দেখে আমরা সারাদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারি। আজকাল অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোও অনেক বেশী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

 

প্রতিদিনের খবরে আমরা অনেক সময় খুশী হই, রেগে যায়, দুঃখ পাই বা চিন্তিত হয়ে পরি।এসডি এশিয়ার পাঠকদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি সেইসব খবরের পেছনের মানুষদের নিয়ে যারা আমাদের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।হাজার হাজার পাঠক বা দর্শক অনেক আগ্রহ নিয়ে জনপ্রিয় এসব সাংবাদিকদের খবর দেখছেন বা পড়ছেন। দেখে নিন এসডি এশিয়ার চোখে জনপ্রিয় দশ সাংবাদিকের প্রোফাইল।

 

সামিয়া রহমান

samia 2

যারা টেলিভিশনের খবর দেখতে পছন্দ করেন তাদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় প্রথম সাড়িতে রয়েছেন সামিয়া রহমান। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহমুদুর রহমানের কন্যা সামিয়া পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে। এখান থেকেই বি. এ. (অনার্স) এম. এ. ডিগ্রী অর্জন করেছেন। দু’বারই তিনি ছিলেন ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট ও গোল্ড মেডালিস্ট।

 

চাকরিজীবন শুরুতেই পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন একটি এনজিওতে। ২০০০ সালে একুশে টিভি চালু হলে সেখানে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক একুশে টিভি বন্ধ করে দিলে তিনি এনর্টিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে এনটিভির চাকরি ছেড়ে আবার দেশ টিভিতে এক বছর কাজ করেন। মাঝে কয়েক বছর টেলিভিশন মিডিয়া থেকে দূরে থাকার পর বর্তমানে তিনি চ্যানেল ৭১ এর কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এন্ড প্রোগ্রাম এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

শাইখ সিরাজ

শাইখ-সিরাজ1

বাংলাদেশের কৃষি নিয়েও যে অনেক আকর্ষণীয় সংবাদ উপস্থাপন এবং অনুষ্ঠান করা যায় তা প্রমাণ করেছেন শাইখ সিরাজ। তিনি বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে খুবই পরিচিত মুখ।সর্ব প্রথম তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষ উপস্থাপনা করেন।

 

নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে সম্মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।

 

তিনি ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ নামে চ্যানেল আইতে সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। বর্তমানে তিনি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আই’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার কাজের স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে একুশে পদক (১৯৯৫),জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এএইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড (২০০৯) ,ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ড,বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) পদক (২০১১) এবং ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স অন্যতম।

 

আনিসুল হক

anis20150304130904

 

অনেক পরিচয়ই দেয়া যায় তাকে।তিনি একাধারে লেখক-সাংবাদিক-লেখক-নাট্যকার।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সত্য ঘটনা নিয়ে তাঁর লেখা মা বইটি বেশ জনপ্রিয়।

শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে পুরস্কার, টেনাশিনাস পদকসহ বেশ কয়েকটা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কারের পর ২০১২ সালে কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কারও পান দুটি পাবলিক পরীক্ষাতেই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তিনি ৩য়(এস এস সি) এবং এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন।

 

জনপ্রিয় এই সাংবাদিক আনিসুল হকের  প্রফেশনাল ক্যারিয়ার কিন্তু সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু হয়নি।বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন। অল্প কিছুদিন চাকরির পরই তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক দেশবন্ধু পত্রিকার সহসম্পাদক, ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত দৈনিক ভোরের কাগজের সহকারী সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়া তিনি টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছেন।

 

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন।এই পত্রিকাতেই তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন।

 

উৎপল শুভ্র

10659199_10152632189370202_5456412319315398384_n

ক্রীড়া সাংবাদিকতায় প্রথম সারিতে থাকা নামগুলোর একটি উৎপল শুভ্র।খেলাধুলার খবরকে গল্পের আকারে লিখে হাজার পাঠক টেনে এনেছেন তিনি। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা হিসেবে নেননি। আজকের কাগজের স্পোর্টস এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করছেন প্রথম আলোর স্পোর্টস এডিটর হিসেবে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ফুটবল, অলিম্পিক গেমস ছাড়াও সব বড় বড় খেলার খবর কভার করেছেন তিনি। তিনি ক্রিকেটের বাইবেল নামে পরিচিত উইজডেন ক্রিকেটার্সের অ্যালমনাইয়ের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

 

খালেদ মুহিউদ্দীন

khaled

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এর বার্তা প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন খালেদ মুহিউদ্দীন।এই চ্যানেলেই জনপ্রিয় টক-শো ‘আজকের বাংলাদেশ’র উপস্থাপনাও করছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর এ বিভাগে খণ্ড-কালীন শিক্ষকতাও করেছেন। উচ্চতর শিক্ষার্জনে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৩ – ২০০৪ সালে এমএ করেছিলেন।

 

পেশাগত জীবন শুরু করেন প্রথম আলোতে।বিসিএস পাস দিয়ে অল্প কিছুকাল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।  বার্তা সম্পাদক হিসেবে ছিলেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪ডটকমে। একটি মুঠোফোন পরিচালন প্রতিষ্ঠানেও জনসংযোগ প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখা লিখিও করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রকাশিত বই সংখ্যা পাঁচ।

 

 

জ ই মামুন

Je-mamun1

বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পরিচিত নাম জ ই মামুন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই একুশে টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অনেক অনুসন্ধানী রিপোর্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

একুশে টেলিভিশনের পর এটিএন বাংলায় যোগ দেন তিনি।তিনি টানা ১১ বছর ছিলেন এটিএন বাংলায়।

এটিএন বাংলার হেড অব নিউজের দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। এরপর গত বছর যমুনা টেলিভিশনের নিউজ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পান মামুন।

মুন্নি সাহা

atn_news_newshead_munni_saha_3745

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় খুবই আলোচিত একটি মুখ মুন্নি সাহা। অনুসন্ধানী কিংবা রাজনৈতিক ইস্যু সব খবরই জম জমাট ভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। টক শোতে অতিথিদের গঠনমূলক প্রশ্ন করে অনেক বেশী আলোচিত হয়েছেন তিনি।

 

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই সংবাদপত্রে টুক টাক লেখা লিখি করতেন তিনি।এরপর সাংবাদিকতায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে পুরোদমে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি৷

 

১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজ দিয়ে সাংবাদিকতার শুরু মুন্নির৷ দৈনিক আজকের কাগজের পর ‘ভোরের কাগজ’ পত্রিকায় কাজ করেন তিনি৷ এরপর ১৯৯৯ সালে একুশে টেলিভিশন(ইটিভি)তে যোগ দেন তিনি৷ এখন এটিএননিউজের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব-রত রয়েছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সংবাদ সংগ্রহ করতে নেপালেও গিয়েছেন তিনি।

 

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

n698222595_1217007_2058

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ইত্তেফাকের স্পোর্টস এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। খেলাধুলা নিয়ে লেখা ছাড়াও ছোটদের সাহিত্য নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন তিনি।অ্যাডভেঞ্চার গোয়েন্দা গল্প এবং ফ্যান্টাসি নিয়েও তার বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘হরিপদ টিম’ নামে একটি গোয়েন্দা সিরিজ লিখে যাচ্ছে তিনি। খেলার মাঠে বসে ক্রিকেট অনেক বেশী কভার করলেও ফুটবল নিয়ে আলাদা ভালবাসা রয়েছে এই জনপ্রিয় সাংবাদিকের।

 

এলিটা করিম

elita_5244_1

সৌদি আরবে শৈশব কেটেছে এলিটার।২০০১ সালে দেশে ফেরার পর ২০০৩ সালে বিনোদন প্রতিবেদক হিসেবে ইংরেজি দৈনিক ডেলি স্টারের সাথে যুক্ত হন তিনি। এরপর স্টার ম্যাগাজিনের সিনিয়র রিপোর্টার এবং স্টার ক্যাম্পাস ম্যাগাজিনের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন বহু দিন। বর্তমানে তিনি ইংরেজি দৈনিকটির ফিচার সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে মিলেছে অ্যাওয়ার্ডও। কিশোরী ও নারী পাচারের উপর একটি স্টোরির জন্য রেডক্রস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০০৯ অর্জন করেন তিনি।

 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গান গেয়েও অনেক বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।  গান, সাংবাদিকতা ও রেডিও জকি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণের জন্য তিনি যুক্ত আছেন ‘জাগো ফাউন্ডেশনের’ সঙ্গে।

 

 

ফাহিম রহমান

10500497_525241460913824_3343593454279723804_n

সবার আগে রেডিওর জকি হিসেবে কাজ শুরু করেছেন জনপ্রিয় সাংবাদিক এবং সংবাদ উপস্থাপক ফাহিম রহমান। রেডিওতে জনপ্রিয় কণ্ঠ থেকে তার নাম ‘আরজে ফাহিম’ হিসেবেই বেশী জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ২০১১ সাল থেকে কাজ শুরু করেন একাত্তর টেলিভিশনের স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টে।

কিছুটা ভিন্ন ঘরনায় খেলার খবর ‘খেলা-যোগ’ উপস্থাপন করে আলোচনায় আসেন ফাহিম।বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ‘ফুটবল ফিয়েস্তা’ অনুষ্ঠানও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা এফএমের রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন।

 

Tousif Alam