অফিসের হাজারো কাজের বোঝায় ক্লান্ত হয়ে পড়ি আমরা সবাই। বিশেষ করে দুপুরের দিকে সব কাজের চাপ যেন ঘাড়ে এসে পড়ে। কাজের চাপ থেকে মুক্তি পেতে ছেলেরা বেশিরভাগ সময়ই বারবার ধূমপান করতে বের হন। কিন্তু তারা জানেন না সিগারেটে থাকা নিকোটিন ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সাময়িক শান্তি পেতে এসব মাদক বাদ দিয়ে দারুণ কিছু উপায়ে মাথা থেকে দূর করতে পারবেন অফিসের সব কাজের চিন্তা।

 

১। ভাজা পোড়া খাবার বাদ দিয়ে শাক সবজি ও প্রচুর পানি পান করতে পারেন

 

অফিসের কাজের ফাঁকে অনেকেই দু একবার ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া ছাড়া টিকতেই পারেন না। তাদের জন্য বলছি, ভাঁজা পোড়া খাবার বাদ দিয়ে বেশি করে ফল এবং শাক সবজি খেতে পারেন। অফিসের ব্রেকে শুকনো বিস্কুট এবং ফল খেতে পারেন। দেশি ফল ও শাক সবজিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা ক্লান্তি দূর করবে। আর কাজের মধ্যে ডুবে থাকলেও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

 

২। নিয়মিত ব্যায়াম

 

শরীর ঠিক থাকলে মন এমনেতেই চাঙ্গা থাকবে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর ভাল থাকবে। অফিসের কাজেও তখন আর এতটা ক্লান্তি থাকবে না। যারা ব্যায়াম করার সময় পান না, তারা অন্তত অফিস থেকে হেঁটে বাসায় ফিরতে পারেন।

 

৩। যথেষ্ট ঘুমের প্রয়োজন

ভাল মত ঘুম হলে সারাদিন কাজ করার মত শক্তি পাওয়া যায়।ঘুম ভাল না হলে সারাদিন একটা খটখটে মেজাজ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। তাই অন্তত রাতের বেলা সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।

৪। সবকিছু মেনে নেয়ার মত মানসিকতা

 

জীবনের সবকিছুই নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে না। তাই কঠিন পরিস্থিতির সময়ও সহজ ভাবে সব কিছু মেনে নেয়ার মন মানসিকতা থাকতে হবে। তাই যদি আপনার বস আরও নতুন নতুন দায়িত্ব আপনার কাঁধে তুলে দেয় তবুও সেটা মেনে নিয়েই কাজ করে যেতে হবে।

৫।মেডিটেশন ও ধার্মিক কাজে অফিসের চাপ থেকে মুক্তি মিলতে পারে

 

মাত্র পাঁচ মিনিটের মেডিটেশনের মাধ্যমে অনেক ধরণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। তাই দিনের একটু সময় বের করে নিয়ে মেডিটেশন করতেই পারেন। তাছাড়া যে যেই ধর্মেই আছেন অফিসের শত কাজের মাঝে প্রার্থনা করার জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করে নিতে পারেন। এতে করে মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি আসবে।

 

৬। পরিস্থিতি বুঝে ‘না’ বলতে শেখা

 

আমরা অনেকেই অযথাই নিজেদের কাঁধে অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে নেই। সেসব দায়িত্ব নেয়ার দিকে ভেবে নিতে হবে, নিজের যথেষ্ট সময় আছে নাকি সেসব বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে। তাছাড়া অন্যদের অনবরোধে নিজের আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও জোড় করে অনেক কাজে আটকা পড়ে যেতে হয়। তাই পরিস্থিতি বুঝে খুব সহজ ভাষায় নিজের কাজের চাপের কথা সহকর্মীদের বোঝাতে হবে। এতে করে অন্য সহকর্মীরাও বাড়তি কোন দায়িত্ব আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দিবে না। আর যদি নতুন কোন দায়িত্ব দিয়েও থাকে সেটা ভাল ভাবেই মেনে নিতে হবে। মোটকথা মাথা ঠাণ্ডা রেখে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ ভাগ করে নিতে হবে।

৭। সব কাজ গুছিয়ে করার চেষ্টা করতে হবে

সবগুলো কাজ করার জন্য একটা টাইম -টেবিল ঠিক করে সেই অনুযায়ী কাজ গোছাতে হবে। কাজ গোছানো থাকলে সহজেই সব কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে। কোন তথ্য হারিয়ে গেলেও উদ্ধার করা যাবে। আর গুছিয়ে কোন কাজ করা হলে সেটা সব সময়ই তাড়াতাড়ি করা যায়। এজন্য আর বাড়তি চাপে থাকতে হবে না কাউকে।

 

 

সবচেয়ে বড় কথা হল অফিসে কাজের চাপ থাকবেই। তাই নিজের কাজটুকু যতটা পারা যায় আনন্দের সাথেই করা উচিত। তারপরও বাড়তি চাপ সামলাতে আমাদের দেয়া টিপসগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।আপনাদের মতামত এবং টিপস জানাতে পারেন টুইটার অ্যাকাউন্টেও @sdasiaco @tousifalamafc

Tousif Alam