পাঁচ বছর আগেও দেখা যেত প্রত্যেকটা গলির মোড়ে মোড়ে একটি দুটো করে সাইবার ক্যাফে। ইন্টারনেটের কোন কাজ করার দরকার পড়লেই সাইবার ক্যাফেতে ঢুঁ মারত সবাই। কিন্তু এখন এর চিত্র অনেক পাল্টে গেছে। সবার কাছে ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে যাওয়ার কারণেই সাইবার ক্যাফের প্রয়োজন এখন অনেক কমে গেছে।

 

সাইবার ক্যাফের ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, গ্রাহকদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গত পাঁচ বছরে ৪০% ক্যাফে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন(বিটিআরসি)র তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১৪ মিলিয়ন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৪২.৭৬ মিলিয়ন মানুষ।

কমিশনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৪১.৩০ মিলিয়ন মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার কর থাকেন। কিন্তু পাঁচ বছর আগেও চিত্রটি এমন ছিল না। ২০১০ সালে মাত্র ৭০ মিলিয়ন মানুষ মোবাইল ব্যবহার করত। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ মিলিয়ন মানুষের মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল।

 

সাইবার ক্যাফের ব্যবসায়ীরাও বলছেন একই কথা। ইন্টারনেটের দাম কমে যাওয়াতেই বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে গিয়েছে। সব ধরণের মোবাইল গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্যাকেজের ব্যবস্থা রেখেছে মোবাইল অপারেটররা।

 

৩০০ টাকার মধ্যেই মোবাইল অপারেটররা সাড়া মাসের জন্য ১ জিবি নেট কানেকশন উপভোগ করতে পারে।৮০০-৮৫০ টাকার মধ্যেই থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশনও এখন পাওয়া যায়। সেজন্য কেউ এখন আর সাইবার ক্যাফেতে দৌড়া দৌড়ী না করে নিজেরাই প্যাকেজ কিনে নেয়।

 

সাইবার ক্যাফেগুলোর ব্যবসাও এখন অনেক হুমকির মুখে। সাইবার ক্যাফে ওনার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (সিসিওএবি) এর তথ্য মতে ঢাকায় বর্তমানে সাইবার ক্যাফের সংখ্যা ৪০০ তে নেমে এসেছে। ২০১০ সালেও এই সংখ্যা ছিল ৭৫০। সাড়া বাংলাদেশেও সাইবার ক্যাফের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার। চার বছর পড়েই সাইবার ক্যাফের সংখ্যা ৮০০ টি কমে যায়। প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছিল এই সাইবার ক্যাফে গুলোতে। তার মানে এই ব্যবসা কমে যাওয়াও একটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাছাড়া মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করাও বেশ সহজ। যেখানে সেখানে হাতে নিয়ে ব্যবহার করা যায় এটি। ফলে ডেস্কটপ কম্পিউটারেও মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করা কমিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। তখন হয়তো অনেক খুঁজেও সাইবার ক্যাফেগুলোর দেখা মিলবে না।

Tousif Alam