নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্রী ফাইজা কামাল। তিনি তার বাবা-মাকে ছেড়ে ঢাকায় একা একা থাকছেন। ইউনিভার্সিটির ক্লাসের পাশাপাশি একটা পার্টটাইম চাকরিও করছে ফাইজা। স্বল্প সময়ে তার অনেক কাজ করতে হয় বলে, ঘরে এসে প্রতিদিনের গ্রোসারি পণ্য সরবরাহ করে এমন কোন সেবার খোঁজ করছিলেন তিনি। ফাইজার মত এমন হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী ঠিক একই ধরণের সেবার খোঁজ করছিল। শুধু ছাত্র ছাত্রীই নয় চাকুরীজীবীদের জন্য এই সেবা আরও বেশী প্রয়োজন।

 

ব্যবসা মানেই হল, কোন সেবা বা পণ্য বিক্রি করা এবং তার বিনিময়ে টাকা পয়সা উপার্জন করা। কিন্তু সেই ব্যবসা যদি মানুষের প্রয়োজনে আরও বেশী দরকার হয় তাহলে তো কথাই নেই। ডাইরেক্ট ফ্রেশ সেই সেবাই নিয়ে আসছে। মানুষের ঘরের দরজায় সেরা মানের পণ্য সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে তারা। DirectFreshBD.com সাইটে যেয়ে অর্ডার দেয়া যায় এসব গ্রোসারি পণ্য। কৃষকদের সাথে সরাসরি চুক্তি করে সেরা মানের এবং কেমিক্যাল মুক্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে DirectFreshBD.com। চালডাল ডট কম, সবজিবাজার ডট কম, মিনা বাজারের অনলাইন শপের মত গ্রোসারি পণ্যকে সরবরাহ করার নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে DirectFreshBD.comও।

 

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী বেড়েছে। টেক ওয়ার্ল্ড বিডি ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন মার্কেটিং ২০০৭ থেকে ২০১২ সালে ১০.৪% বেড়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৮.৮% বাড়তে পারে। প্রতি সপ্তাহেই ই-কমার্স সাইটের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

এবার আসি বাংলাদেশের পাশের দেশ ভারতের আলোচনায়। সেখানে ই-কমার্সের মাধ্যমে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের পণ্য বিক্রি হয়। পরিসংখ্যান বলছে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালে যেতে যেতে ই-কমার্সের মার্কেট বেড়ে দিগুণ হয়ে যাবে যা টাকায় পরিমাপ করলে হবে ৫২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

 

বিশেষ করে হরতাল মৌসুমে ই-কমার্স ব্যবসা বেড়ে যায়। মানুষজন তখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়। তাই প্রয়োজনীয় কেনা কাটাও অনলাইনে সাড়তে চায় তারা। এমনকি নামী দামি রেস্টুরেন্টের খাবারও বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে এসব সাইট। বেসিসের তথ্য( বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সফটওয়ার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস) অনুযায়ী ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনলাইন সাইটে বিক্রি বেড়ে ২০০ মিলিয়নে দাঁড়াবে। এই স্রোতে অনেক বেশী ই-কমার্স সাইট বেড়ে যাবে। তারা অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য মার্কেটিং করতেও বেশ কিছু টাকা খরচ করছে। তার মানে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়, বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

 

বাংলাদেশের অনলাইন গ্রোসারী শপগুলোর ওয়েব সাইটে গিয়ে পণ্যের দাম দর দেখে অর্ডার দেয়া যায়। সেদিক থেকে পণ্য বাছাই করার সিস্টেমও বেশ সুন্দর। পণ্য পৌঁছে দেয়ার সময় পরিশোধ করে দেয়া যায় পণ্যের দাম। তাছাড়া অনলাইনে বিকাশ, পেওনার, ব্র্যাক ব্যাংক ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেও পরিশোধ করা যাবে দাম।

 

ঢাকায় ই-কমার্স ব্যবসার এই বিপ্লবে যোগ দিয়েছে গ্রোসারি শপগুলোও। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে নিজেদেরকে পরিচিতও করে তুলছে তারা। ১৮-৪০ বছর বয়সী ক্রেতাদেরকেই টার্গেট করেই তাদের ব্যবসায়ীক মডেলকে সাজিয়েছে সাইটগুলো। সাইটগুলোতে যাতে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয়ও পণ্য খুঁজে পাওয়া যায় সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তাই গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যেতে থাকলে ঢাকায় ই-কমার্স সাইটগুলো অনেক তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হবে।

Tousif Alam