শুধু নিজেদের শহরেই নয়,অন্যান্য শহরকেও আওতাধীন করতে চায় ভিয়েতনাম ভিত্তিক টেকনোলজি স্টার্ট-আপ ইকোস। পর্যটকদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইকোস। ‘সাউন্ড ম্যাপ তৈরি করা এবং তাদের কথা শোনা’এই মূলমন্ত্র নিয়ে মে মাসের সিঙ্গাপুর ফোরামে উদীয়মান স্টার্ট-আপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে তারা।

 

জশ কোপেকের হাত ধরে মুক্তি পাওয়া ‘সাউন্ড ওয়াক’প্রোজেক্টটি ইউনিক সার্ভিস লোকেটিভ অডিও এবং থ্রিডি সাউন্ড ট্যুরের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।এই অভিজ্ঞতা পেতে পর্যটকদের শুধু একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে হবে আর তার সাথে থাকতে হবে হেডফোন।জিপিএসের সাথে সাউন্ড ট্র্যাকের সংযোগ করে কাজ করে এই অ্যাপ্লিকেশনটি।

 

বর্তমানে হ্যানয় এবং কোপেনহেগেনে পর্যটকদের ট্যুরের সহযোগী হিসেবে কাজ করে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। এরই মধ্যে ডেনিশ অ্যামব্যাসি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১১৫০০ মার্কিন ডলার ফান্ড সংগ্রহ করেছে তারা। প্রত্যেকবার ফান্ডের বাজেটের চেয়ে পাঁচ হাজার ডলার বেশি হলেই একটি করে নতুন শহর যোগ করার পরিকল্পনা করেছে তারা।

ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমন সেবা দিয়ে যাচ্ছে তারা।জশের পরিকল্পনায় আছে সাড়া বিশ্বে এই সেবা পৌঁছে দেয়া।

 

মে মাসের টেক ইন এশিয়া সিঙ্গাপুর ফোরামে নতুন নতুন উদ্যোগ খুঁজে নেয়া হবে।তিন জন বিচারক মিলে নতুন নতুন উদ্যোগকে নির্বাচিত করছে। তাদের মধ্যে ইন্সপায়ার ভেঞ্চার থেকে কুয়ান নুয়েন,তাইপের কামিয়া থেকে বেন লিউ এবং ইঙ্কুভেস্ট থেকে রনি উই।

 

যে কোন যায়গার আশে পাশের শব্দ শুনে পর্যটকদের যায়গা সম্পর্কে পরিচিত করিয়ে দিবে ইকোস। ফিল্ড রেকর্ডিং এর মাধ্যমে সবার প্রথমে এই সেবা শুরু করেছিল তারা।

 

জোশে জানান, এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কোন যায়গায় যাওয়ার আগেই সেই যায়গা সম্পর্কে তথ্য পাবে পর্যটকরা। ২০১৩ সালে সালে যাত্রা শুরু করা অ্যাপ্লিকেশনটি এখন স্বপ্ন দেখছেন আরও দূর যাওয়ার।

 

গত বছর ভিয়েতনামে ৭.৮৭ মিলিয়ন বিদেশী পর্যটক ঘুরতে এসেছিল। এসব পর্যটকদের কাছ থেকে ১০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের লাভ এসেছিল। এবছর আরও ৮.৫ মিলিয়ন পর্যটক আনার লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করেছে ভিয়েতনাম।

 

সেই সাথে ভিয়েতনামে পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিও কাজ করে যাচ্ছে।তাদের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে ইন্ডিয়া এবং দক্ষিণের অন্যান্য দেশে মার্চ এবং এপ্রিল মাস জুড়ে বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। পর্যটন শিল্পে ভিয়েতনামের এমন পদক্ষেপেই বলে দিচ্ছে ‘ইকোস’এর মত নতুন নতুন উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Tousif Alam