সুইডেনের প্রথম সারির বেশ কিছু আইটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রোডাকশন খরচ কম বলে ভারতে বেঙ্গালুরুর পর বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে পড়েছে সুইডেনের এসব আইটি প্রতিষ্ঠান।

 

ঢাকায় নিযুক্ত সুইডিশ এম্বাসেডর জোহান ফ্রিসেলের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে তোফায়েল আহমেদ জানান, বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ করতে মার্চের ১১ তারিখ সুইডেনের একদল ব্যবসায়ী বাংলাদেশে আসছেন।

 

 

ফ্রিসেল জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় যে কোন দেশেই এখানে ব্যবসা করতে আগ্রহী হবে। কাজের পরিবেশ ভাল বলেই সুইডেন থেকে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আসছেন।তবুও বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো ব্যবস্থা একটু ভাল করা দরকার।

খুব দ্রুত বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের জন্য খুবই ভাল একটা খবর। আর বাংলাদেশের সাথে সুইডেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল বলেন, ‘আইটি সেক্টর বাংলাদেশের অন্যতম উদীয়মান সেক্টর।বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে ফার্মাসিটিক্যালস,লেদার, শিপ-বিল্ডিং এবং আসবাবপত্রের মত এই সেক্টরেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। আর তাই শুধু বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গার্মেন্ট সেক্টরের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এসব সেক্টরকেও দাঁর করাতে চায় সরকার’।

 

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বেশ স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মনে করেন তোফায়েল। তিনি বলেন, ‘পুরো সাপ্লাই-চেন ঠিকঠাক মতই চলছে। ফ্যাক্টরি এবং সমুদ্র বন্দর থেকে পণ্য আমদানি- রপ্তানি প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক। মানুষ জন চলাচল করার সময় ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়া কাজে যাচ্ছেন’।বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্বাভাবিক হবে বলেই আশ্বাস দেন তিনি।তিনি জানান জানুয়ারির ছয় তারিখের পর থেকে পণ্য পরিবহনে ভীতি সম্পর্কেও তিনি অবগত রয়েছেন।

 

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৪২১.৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে সুইডেনে। এবছর এখন পর্যন্ত ৪.৩৯ % পণ্য রপ্তানি করার মাধ্যমে ৬৯.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ যা গত বছরের চেয়ে ১৩.৪% বেশী।

 

 

সুইডেনে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে থাকে বাংলাদেশ। গার্মেন্ট পণ্য ছাড়াও জুতা, ঘরোয়া কাপড়, সিরামিক পণ্য, হাতে তৈরি পণ্য, পাটজাত দ্রব্য,চামড়া এবং চিংড়িও রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

 

এদিকে, সুইডেন থেকে ইলেকট্রিক পণ্য, যাতায়াত পণ্য সামগ্রী, গাড়ি আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ। শুধু অস্ত্র রপ্তানি ছাড়া আর কোন পণ্যের ক্ষেত্রে সুইডেন বা ইউরোপীয় বাজারে ঢুকতে বাংলাদেশকে কোন রপ্তানি শুল্ক দিতে হয় না।

Tousif Alam