আজকালকার যুগে অনেককেই বলতে শোনা যায় তাদের যেকোনো গ্যাজেট বা পছন্দের ঘড়িটি অনলাইন স্টোর থেকে কিনেছে। জুতা, কাপড়, বই, গ্যাজেট এমন কি নেই যা এখন আর অনলাইন স্টোর গুলোতে পাওয়া যায় না। অনলাইন স্টোরগুলোর কারণে এখন মার্কেটের দোকানগুলোতেও কেনাবেচা অনেক কমে গিয়েছে। তবে অনেক অনলাইন স্টোরের ক্ষেত্রে পণ্যকে যতটা না সুন্দর ভাবে ডিসপ্লেতে দেখানো হয়, অর্ডার দিয়ে কেনার পর সে ধারনা একেবারেই মিথ্যে হয়ে যায়। তবে কায়মুর জনসংযোগ কর্মকর্তা সায়েদা উমায়লা আখতারের সাথে কথা বলার পর এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। কায়মু বাংলাদেশের মূল-লক্ষ্য ছাড়াও তিনি আরও জানালেন কিভাবে তারা বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাহায্য করে যাচ্ছেন।

 

সায়েদা উমায়লা আখতার, জনসংযোগ কর্মকর্তা, কায়মু বাংলাদেশ
সায়েদা উমায়লা আখতার,
জনসংযোগ কর্মকর্তা, কায়মু বাংলাদেশ

প্রশ্ন- কায়মু বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর- কায়মু সবচেয়ে বড় এবং নিরাপদ অনলাইন মার্কেট-প্লেস। ইলেকট্রনিক পণ্য, বই, ফ্যাশন সামগ্রী, মোবাইল ফোন এমনকি গাড়িও কিনে নিতে পারে এখান থেকে। ফিক্সড প্রাইজ নিয়মে সবচেয়ে কম মূল্যে এখান থেকে পণ্য কিনে নিতে পারে ক্রেতারা।

 

প্রশ্ন-বাংলাদেশে ই-কমার্স এখনও নতুন। এদেশে ই-কমার্সকে বাড়িয়ে নিতে কায়মু কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

উত্তর–আমরা প্রথমেই নতুন উদ্যোক্তাদের অনলাইন বিজনেসকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছি। ই-কমার্স কনসেপ্টটি তাদেরকে বোঝানো খুব জরুরি। এবং এভাবেই তারা এতে আগ্রহী হতে থাকবে।

 

অনেকেই ব্যবসা করতে আগ্রহী হচ্ছেন,কিন্তু অনলাইন ব্যবসায় যেতে চাচ্ছেন না তারা। কারণ তারা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না অনলাইনে ব্যবসা করা কতোটা লাভজনক হতে পারে। অনলাইনে সবচেয়ে বেশী ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায় এবং এটাই সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আর তাই আমরা নতুনদের আমাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করতে উৎসাহিত করছি। আমরা প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে তাদের সাথেই কাজ করতে বেশী আগ্রহী।

 

প্রশ্ন-Kaymu.com.bd –র মত অনলাইন প্লাটফর্মে উদ্যোক্তারা একসাথে কাজ করে কি কি সুবিধা পেতে পারে?

উত্তর- -সর্বপ্রথম একটি নতুন দোকান শুরু করতে গেলে অনেক বাজেট নিয়ে দোকান শুরু করতে হয়। সেক্ষেত্রে অফিস ভাড়া,বিল সহ অনেক টাকা গুনতে হয়। সেদিক থেকে অনলাইন স্টোরের ক্ষেত্রে কোন পুঁজি ছাড়াই ব্যবসা শুরু করা যায়।

কায়মুর সাথে নতুন কোন ব্যবসা চালু করতে গেলে সাইন আপের জন্য কোন খরচ করতে হয় না। তারা আমাদের একাউন্ট ম্যানেজারদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবে। সে পরামর্শ কাজে লাগিয়ে নতুনরা তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

একুইজিশন এবং সেলস টিম, সেলার ম্যানেজমেন্ট টিম ও প্রোডাক্ট লিস্টিং, ম্যানেজমেন্ট, প্রোমোশন এর জন্য কন্টেন্ট টিম, অর্থাৎ কায়মুতে আমাদের মোট তিনটি টিম রয়েছে।

 

অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার
অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার

প্রশ্ন-ই-কমার্স সম্পর্কে এখনও যেহেতু অনেকেই ঠিকমত জানে না তাদের জন্য কায়মু কি করছে?

উত্তর- -অনেক ক্রেতা বিক্রেতাই জানে না কিভাবে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় করতে হয়। তাই আমাদেরকে প্রথমেই এ বিষয়ে শিক্ষিত করতে হবে তাদেরকে।সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে ই-কমার্সকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা।আগ্রহী মানুষদের অনলাইনে কেনা বেচা সম্পর্কে জানাতে চাই।

 

অনলাইনে খাবার কেনার কথা পাঁচ বছর আগে কেউ চিন্তাও করেনি।কিন্তু এখন জুতা থেকে শুরু করে কাপড় এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুই অনলাইনে কিনছে। কারণ তারা কায়মুর অনলাইনে কেনার সুবিধা সহ প্লাটফর্ম গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে।অনলাইনে পণ্য কেনার মাধ্যমে সময় এবং শ্রম দুটিই বেঁচে যায়।

 

সেলস টিম
সেলস টিম

প্রশ্ন-তরুণ উদ্যোক্তাদের সাহায্য করতে কায়মু এখন পর্যন্ত কি কি করেছে?

উত্তর- -তরুণ উদ্যোক্তারা, যারা পড়াশুনার পাশাপাশি দোকানে কাজ করতে চান তাদের জন্য সময় ঠিক-ঠাক রেখে কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে পরে।সেক্ষেত্রে অনলাইন অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে।

 

নতুন কেউ যখন কায়মুর সাথে ব্যবসা শুরু করবে তখন বলা যায় তাদের ব্যবসার দেখ ভাল আমরাই করে থাকি। তাছাড়া আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা একসাথে অনেক ক্রেতাকে পেতে পারে। পণ্যের ছবি তোলা থেকে শুরু করে কোন পণ্য কতটা ভাল ব্যবসা করছে সেই বিজনেস স্টেটিটিক্সও তুলে ধরি আমরা।

 

প্রশ্ন-ক্রেতা-বিক্রেতাদের কিভাবে সাহায্য করছে কায়মু?

উত্তর- –    কায়মুর মোবাইল প্লাটফর্ম ক্রেতা- বিক্রেতা দু পক্ষকেই সংযুক্ত রাখে। ক্রেতারা অনেক অনলাইন স্টোর থেকে খুঁজে কম দামে পণ্য কিনতে পারে। আর বিক্রেতারা দাম কমিয়ে অনেক ক্রেতাকেই আকৃষ্ট করতে পারে।

কায়মুর এই একটি প্লাটফর্মে সবকিছুই করতে পারে তারা।জামা-কাপড়, গেজেট সবকিছুতেই লাভ করতে পারে তারা। আমরা বিভিন্ন উৎসব পার্বণে আলাদা ক্যাটাগরি বানিয়ে রাখি। যেমন বিয়ের মৌসুমে বিয়ের সব জিনিসপত্র সহ আলাদা ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যেয়ে সহজেই সব কিছু কিনে নেয়া যাবে।

 

প্রশ্ন-কায়মুতে নতুন উদ্যোক্তাদের সাইন আপ করতে কোন কন্ট্রাক্ট করতে হয়?

উত্তর- -মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভ্যালিড ইমেল আইডি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কায়মুর সাথে সাইন আপ করা যায়।

বাংলাদেশে যেভাবে স্মার্ট-ফোন ব্যবহারকারী বেড়ে যাচ্ছে এবং ইন্টারনেট ডাটা চার্জ কমে যাচ্ছে তাতে করে বাংলাদেশে ই- কমার্সের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। কায়মু এন্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বিক্রেতা পণ্যের ছবি তুলে নিজের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আপলোড করে নিতে পারবেন।

 

প্রশ্ন-এক্ষেত্রে কায়মু কিভাবে লাভ করে থাকে?

–    আমাদের কোন সেট আপ কস্ট নেই। তাই কোন সাইনিং ফিও নেয়া হয় না। অন্যান্য ই- কমার্স সাইটগুলোর মত পণ্য বিক্রি হলে তা থেকে কমিশন নিয়ে থাকি আমারা। তাই বিক্রেতারা যখন পণ্য বিক্রি করতে পারবে তখনই আমরা আমাদের লাভের অংশ পেয়ে থাকি।

প্রশ্ন-কায়মুর মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছে এমন কিছু উদাহরন।

উত্তর–    আমরা এমন অনেক উদ্যোক্তাদের সাথে কাজ শুরু করেছিলাম যারা কোন পুঁজি ছাড়াই শুরু করে এখন প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করতে পারছে।অনলাইন শপ ট্রেন্ডি টাচের প্রতিষ্ঠাটা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র জিসান আফতাব বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা খুবই ভাল যে, অল্প বিনিয়োগ করে এটা শুরু করা যায়। এর জন্য কোন দোকান ভাড়া করার প্রয়োজন পরে না, বিল দিতে হয় না।আমাদের মত ছাত্রদের জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি বাড়তি ইনকাম করার জন্য এটা খুবই দরকারি’। কায়মু সবসময় ছোট ছোট ব্যবসায়ী, ছাত্র এবং গৃহিণীদের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। কায়মুর হেড অফ সেলস জানায়েদ মুস্তাফা জানান, ছাত্রদের সাথে পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের সাহায্য করে  যাচ্ছে কায়মু।

k-4

প্রশ্ন-ফেসবুক বা ওয়েবসাইট বাদ দিয়ে কায়মুর মাধ্যমে বিক্রি করা কেন লাভজনক?

উত্তর-    ফেসবুকের মাধ্যমে পোস্ট বুস্ট করে কাস্টমারদের কাছে পণ্য বিক্রি করা যায়। এজন্য কন্টেন্ট স্ট্রেটিজি ঠিক করে টাকা খরচ করতে হয়।

কায়মুতে আমরা ব্র্যান্ডের নাম ঠিক রেখে অন্যদের পণ্য বিক্রি করতে ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোমোশনের ব্যবস্থাও করি।তাই বিক্রেতাদের জন্য প্রোমোশন কস্ট খরচ করতে হয় না।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করতে হলে অনেক সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অফ পিকেও ক্রেতারা যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু আমাদের সাথে সাইন আপ করলে অসংখ্য ক্রেতার খোঁজ পাবে বিক্রেতারা।

 

প্রশ্ন-কায়মুর স্টুডেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর- –    সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশের সেরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। সেখানে ছাত্রদের সাইন আপ করানো হয়েছে যারা আমাদের এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে যাবেন। তারাও কায়মুতে বিক্রেতা হিসেবেই সাইন আপ করেছে এবং আমাদেরকে সাহায্য করে যাচ্ছে। আমরা তাদের জন্য ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট করার উপায় বের করে দিচ্ছি। এই প্রোগ্রাম থেকে আমরা আমাদের এখানে অনেক ইন্টার্নদেরকে পেয়েছি।

প্রশ্ন-অন্যান্য বিজনেস প্রোগ্রাম বা প্রতিযোগিতা থেকে এটি কিভাবে আলাদা?

উত্তর-    আমরা তাদেরকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে আসছি। কিভাবে টাস্ক একাউন্ট ম্যানেজার, কন্টেন্ট ম্যানেজার এবং সেলস ম্যানেজার হতে হবে আমরা তাদেরকে সেসবের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করে যাচ্ছি। তাদের পরিবার, বন্ধুদেরকে কায়মুর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বুঝিয়ে কায়মুতে কাজ করে যেতে হয়েছে। প্রত্যেক ছাত্ররাই অল্প সময়ের মধ্যে দশ বা তার বেশী বিক্রেতাদের সাইন আপ করিয়ে থাকে।

 

এখানে আমাদের একটি বুথ আছে যেখানে প্রোগ্রামে অংশ নিতে ছাত্ররা সাইন আপ করে যেতে পারে। এই প্রোগ্রাম থেকেই ১২ জনকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতেও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকে কায়মু।

 

প্রশ্ন-আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের ছাত্র উদ্যোক্তারা ই-কমার্সের প্রসারে সাহায্য করবে?

উত্তর- -আমাদের স্টুডেন্ট প্রোগ্রামের বেশিভাগ ছাত্ররাই ধীরে ধীরে বিক্রেতা হয়ে যায়। তারা এখন প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার থেকে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা উপার্জন করে যাচ্ছে। শুরুতেই অল্প পুঁজি নিয়ে কাজ করা যায় বলে অনেক তরুনরাই এখন এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়েছেন। শুধু ছাত্ররাই নয়, গৃহিণীরাও এভাবে অনেক কম সময়ের মধ্যে আয় করতে পারে। তাই কায়মুকেই বলা যায় সবচেয়ে সহজে

আয় করার সেরা মাধ্যম। অনলাইন বিজনেসেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে কায়মু।

 

 

নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায়, যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম হতে পারে কায়মু। কায়মুর দক্ষ, পরিশ্রমী এবং অনুপ্রেরণাদায়ি দলের সহযোগিতায় আপনার ব্যবসা লাভজনক হবেই।

Tousif Alam