ঘরে বসে খেলা যায় বলে ‘লুডু’বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয়।ভার্চুয়ালি যে কোন ডিভাইসে ‘লুডু’ খেলার জন্য এদেশের একদল মেধাবী প্রোগ্রামার এবং ডিজাইনার মিলে তৈরি করেছে ‘লুডু ফ্রেন্ডস’ নামে নতুন এই অ্যাপ্লিকেশন। অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে দুই থেকে চার জন মিলে যে কোন স্থানে, যে কোন ডিভাইস থেকে গেমটি খেলতে পারবে।

 

খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন হতে যাচ্ছে। আর তাই এদেশে ‘লুডু ফ্রেন্ডস’অ্যাপলিকেশনটির জনপ্রিয়তাও হু-হু করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।এসডি এশিয়ার সাথে ‘লুডু ফ্রেন্ডস’অ্যাপটির নির্মাতা একেএম মাসুদুজ্জামানের আলাপ-চারিতায় উঠে আসে অ্যাপটি সম্পর্কে নানা তথ্য এবং এটি তৈরির পেছনের খবর।

 

‘লুডু ফ্রেন্ডস’সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন এবং এই অ্যাপটি আপনি কেন বানালেন?

– আমরা ২০১৩ সাল থেকে গেমস ডেভেলপমেন্ট করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রথম প্রথম আমরা শুধু আমেরিকা এবং ইউরোপিয় অঞ্চলের জন্য আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে চলার মত অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে যাচ্ছিলাম।২০১৪ সালের শেষের দিকে এসে আমরা দেখলাম বাংলাদেশে অসাধারণ কিছু উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে উদ্যোক্তারা। সেই সাথে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।আর তারপর থেকেই আমাদের মাথায় এল, বাংলাদেশের নিজস্ব খেলা নিয়ে এখনও কোন গেমস বানানো হয়নি। সেই থেকে আমরা চিন্তা করে আসছিলাম নতুন কোন গেমস বানানোর জন্য, যেটি কিনা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত।এভাবেই ‘লুডু ফ্রেন্ডস’ গেমসটির কথা মাথায় আসে আমাদের।

 

পুরো টিমকে একসাথে নিয়ে‘লুডু ফ্রেন্ডস’কিভাবে এই প্রোজেক্টে কাজ করতে শুরু করল?

-২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন গেমস নিয়ে কাজ করতে করতে একদল দক্ষ ডিজাইনার এবং প্রোগ্রামারদের সাথে পরিচয় হয়েছে আমাদের। আমাদের আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলা গেমস তৈরি করে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আইওএস স্টোরে এখন আমাদের ১২ টি গেমস রয়েছে।আশা করছি এই ভেঞ্চারে আমরা সফল হতে পারব।

আপনার বিজনেস মডেল কি?এটি থেকে কিভাবে আপনারা রেভিনিউ সংগ্রহ করেন?

– গুগল সাপোর্টেড লোকেশনের লিস্টের মধ্যে বাংলাদেশ নেই। আর সেটিই বাংলাদেশী গেমসের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা।তবে আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।আমরা সাধারণত প্রিমিয়ার মডেল ফলো করে কাজ করে যাচ্ছি। যে কেউ এই গেমসটি ডাউনলোড করে খেলতে পারেন এমনকি ভার্চুয়াল কয়েনও কিনে নিতে পারেন।আমরা এখন পরিকল্পনা করছি অ্যাপ্লিকেশনটির পাশে ব্র্যান্ডেড বিজ্ঞাপন দেয়ারও।এই গেমটির সাথে যেহেতু বাংলাদেশীদের আগে থেকেই সম্পৃক্ততা আছে তাই আশা করছি বাঙালিরা গেমটি ডাউনলোড করে খেলতে খুবই পছন্দ করবে।

 

কি কি কারণে ‘লুডু ফ্রেন্ডস’অ্যাপটি অন্যান্য অ্যাপ থেকে আলাদা?

– আমাদের ‘লুডু ফ্রেন্ডস’গেমসটি প্রথম বাংলা গেমস হিসেবে নমিনেশন পেয়েছে। এটি বাংলা- ইংলিশ দু ভাষাতেই খেলা যায়। এন্ড্রয়েড এবং আইওএস অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও ফেসবুকেও খেলা যায় এই গেমসটি।গেমসটির ফিচার অনেক সহজ হওয়ায় আশা করছি যারা লুডু খেলতে পছন্দ করে তারা এই গেমসটি খুবই পছন্দ করবে।এই এপ্লিকেশনের সাহায্যে ফেসবুকের বন্ধুদের সাথেও গেমসটি খেলতে পারবে গেমাররা।

‘লুডু ফ্রেন্ডস’ অ্যাপ্লিকেশনটির সফলতা সম্পর্কে কিছু বলুন,

– বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুডু ফ্রেন্ডস’ গেমসটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে সেটা নিয়ে প্রথমে আমরা অনেকখানি সন্দিহান ছিলাম।আমরা দেড় মাস ধরে আমাদের ডেভেলপিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছি। ডিসেম্বরের শেষের দিকে অ্যাপ্লিকেশনটি বাজারে ছেড়েছিলাম আর এরই মধ্যে প্রায় দশ হাজারবার ডাউনলোড হয়েছে অ্যাপ্লিকেশনটি। আমার মনে হচ্ছে আমরা ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি।

‘লুডু ফ্রেন্ডস’ চালাতে গিয়ে সবচেয়ে বড় কোন সমস্যায় পড়তে হয়েছে?

-আমরা যখন আন্তর্জাতিক বাজারে কোন গেম ছাড়ি তখন অনেক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়।আর এসব ক্ষেত্রে পেমেন্ট সিস্টেমও অনেক ভাল থাকে।কিন্তু বাংলাদেশে পেমেন্ট সিস্টেম ওতটা ভাল না হওয়ায় আমাদের আয় তুলনামূলক অনেক কমে গিয়েছে। যদি টেলিকম কোম্পানি গুলো এই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে এগিয়ে না আসে তাহলে আর এই অবস্থার পরিবর্তন আসবে না। এজন্য আমাদের অন্য একটি রেভিনিউ স্ট্রিম খুঁজে নিতে হবে। দেখা যাক এমন অবস্থায় কতদিন আমাদের চলতে হয়।

 

‘লুডু ফ্রেন্ডস’ চালাতে যেয়ে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে আপনাদের?

-আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও ভাল করা এবং ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বাড়ানো। যতক্ষণ না পর্যন্ত পেমেন্ট সিস্টেম ঠিক না হয় ততক্ষণ আমাদের লাভের পরিমাণও খুব কমে যাবে। তারপরও ডাউন-লোডের ক্ষেত্রে এটি এনড্রয়েড স্টোরে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গেম।

‘লুডু ফ্রেন্ডস’ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?আপনি কি নতুন কোন গেম তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন?

‘লুডু ফ্রেন্ডস’গেমটিতে আমরা টুর্নামেন্ট মুড চালু করার পরিকল্পনা করে যাচ্ছি। এতে করে গেমাররা তাদের পরিবার ও বন্ধুদেরকে নিয়ে গেমটি খেলতে উৎসাহিত হবে। একই রকম ফিচার নিয়ে ‘কল ব্রিজ’ নামের আরেকটি গেম বানানোর পরিকল্পনা করে যাচ্ছি। দুটো গেমই তৈরি করা হয়েছে গেমস প্রেমীদের কথা মাথায় রেখে।

 

গেম তৈরির সময় বাংলাদেশী ডেভেলপারদের কাছ থেকে কেমন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয় আপনাকে?

– বাংলাদেশে এখন অনেকেই বাংলা গেম তৈরি করে যাচ্ছে। আর তাই বাংলা প্লাটফর্মও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই এখন বলতেই হচ্ছে আমাদেরকে অনেক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনি কি উপদেশ দেবেন?

-নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আমার প্রথম উপদেশই হল তারা যেন শুরুতেই কোন বড় পদক্ষেপ না নেয়। ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিৎ নতুনদের।শুরুতেই একটি ডেমো বানিয়ে কাস্টমারদের কাছে তা তুলে ধরতে হবে। সেখান থেকে কাস্টমারদের প্রতিক্রিয়া জেনে নতুন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এরপর সেই প্রোডাক্ট অনুযায়ী বিজনেস মডেলকে ডিজাইন করতে হবে।আমার মনে হয় এই পদ্ধতিতে আগাতে থাকলে কোন ঝুঁকি ছাড়াই নতুন ব্যবসাকে লাভজনক করে তোলা যাবে।

Tousif Alam