সামির সাত্তার, বাংলাদেশের আইন ব্যবসায় নতুন এক নামের আবির্ভাব ঘটেছে। নিজের প্রতিষ্ঠিত ফার্ম সাত্তার এন্ড কোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আইন ব্যবসা নিয়ে পথচলা শুরু সামিরের। অনেক কঠোর পরিশ্রম এবং বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে সফলতার পথে হেঁটেছেন তিনি। পেশেন্স, প্রেয়ার্স এবং পারসিভারেন্স এই তিন ‘পি’ মেনে নিয়ে নিজের কাজে এগিয়েছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমী সাত্তার বিশ্বাস করেন ‘একমাত্র ডিকশনারিতেই সাকসেস শব্দটা কাজের আগে আসে’।

২০০৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন প্র্যাকটিস করে যাচ্ছেন তিনি। ডেবেভয়েস এন্ড প্লিম্পটন এলএলপি এবং ভল্টেরা ফিয়েট্টার মত বিশ্বমানের ল’ফার্মের সাথে লন্ডনে একটা বড় সময় জুড়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৩ সালে বনানীতে এডভোকেট মামুন চৌধুরীকে নিয়ে নিজের অফিসে লিগাল প্র্যাকটিস করার জন্য ফার্ম খুলে বসেন।

শুরুতেই সব ব্যবসার মত সামিরও ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে যেয়ে অনেক ধরণের সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে। সামির মনে করেন লিগাল এডভাইজ দেয়ার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অনেক বেশী বিশ্বাস প্রয়োজন। তিনি মনে করেন যখন একজন ক্লায়েন্ট তার কাজের উপর আস্থা রাখতে পারবে তখন তারা উকিলের উপদেশও মনোযোগ দিয়ে শুনবে।

বাংলাদেশে আরেকটি বড় সমস্যার মোকাবিলা করতে হয় তাকে, আর সেটা হল উকিলের সম্মানী নিয়ে। তিনি মনে করেন বাংলাদেশী কিছু উকিলদের, কাজের মানের চেয়ে কাজের পরিমাণের দিকে মনোযোগ বেশী থাকে। আর তাই সেসব উকিলরা অনেক কম টাকায় কাজ নিতে আগ্রহী হয়ে থাকে। আর তাই এই প্রতিযোগিতার যুগে ক্লায়েন্টরা অনেক কম খরচে নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে চায়। আর তাই তিনি মনে করেন, কাজের পরিমাণ বেশী হওয়ায় কাজের মান ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

কিভাবে সামির নিজের প্রতিষ্ঠান এবং নিজের কাজকে আলাদা ভাবে পরিচয় করেছেন সেই সম্পর্কেও জানা গেল। তিনি সবসময় ক্লায়েন্টদের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। খুব তাড়াতাড়ি নৈতিক উপায়ে ক্লায়েন্টদের সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব নিয়ে থাকেন সামির।তিনি কাজের মানের উপর সবসময়ই জোর দিয়ে থাকেন।যেসব ক্লায়েন্ট টাকার চেয়ে তাদের কাজের মানের প্রতি বেশী জোর দিয়ে থাকেন তারাই মূলত সামিরের টার্গেট কাস্টমার।ক্লায়েন্টদের কাজকে তিনি সবসময়ই সবার আগে মূল্যায়ন করে থাকেন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশী মানুষ সবচেয়ে বেশী ভুল করে যখন কাজের মানের চেয়ে কম টাকায় কাজ উদ্ধারের চেষ্টা করে থাকে।

মূলত সাত্তার এন্ড কো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ক ব্যাপার, বৈদেশিক বিনিয়োগ,ব্যাংকিং আইন, কমার্শিয়াল আইন এবং কিছু বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে আইনি সমাধান দিয়ে থাকে।বাংলাদেশের কোর্টে যেয়ে ক্লায়েন্টদের কোম্পানির বিভিন্ন বিষয়ের আইন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে তারা। স্টার্টআপদের বিভিন্ন উপদেশ,প্রোজেক্ট চালু করার ক্ষেত্রে এবং কোম্পানি চালু করার ক্ষেত্রে সহায়তাও দিয়ে থাকে তারা।বিদেশী কোম্পানির সাথে কাজ করার সময় জয়েন্ট ভেঞ্চারে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা প্রদান করে তারা।

ঢাকা চেম্বার্স অফ কমার্সের ফরেন ইনভেস্টমেন্ট কমিটির পরিচালক থাকার সময়ই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে দেখাশোনা করে আসছেন। সাতজন আইনজীবী,এডভোকেট এবং ব্যারিস্টার,দু জন ইন্টার্ন এবং দুজন অফিস স্টাফকে নিয়ে চলছে সাত্তার এন্ড কো।সাধারণত রিটেইনার ও হক বেসিসে কাজ করে থাকে তার কোম্পানি।

‘কঠোর পরিশ্রমী এবং সহকর্মী হিসেবে দারুণ’, এক কথায় নিজের সহকর্মী সামির সম্পর্কে এমন কথাই বলেছেন যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপিয়ান চেয়ার অফ লিটিগেশনের সাবেক এটর্নি জেনারেল লর্ড গোল্ডস্মিথ কিউসি।

জার্মান ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনের লিগাল কাউন্সিলর ডঃ অ্যালেকজান্ডার স্কিমটজ সামিরের কাজের সম্পর্কে তিনি বলেন।

‘আমি তার সাথে বেশ কয়েকবার কাজ করেছি।প্রতিবার কাজ করার সময় রিসার্চ এবং স্ট্রেটিজিক চিন্তার মাধ্যমে তিনি ক্লায়েন্টদের সেরা সার্ভিস নিশ্চিত করেন। আর তাই তার সাথে কাজ করতে সবসময়ই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি’।

শুধু কাজের ক্ষেত্রেই নয় সামাজিক এবং পারিবারিক দিকেও খেয়াল রাখেন সামির। সেক্ষেত্রে অবশ্য কাজের যায়গায় সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে অনেক সময় পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে থাকতে পারেন না ।তারপরও শত ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকেও সময় দিতে চান তিনি। শুধু তাই নয় অবসর পেলেই পার্কে জগিং, জিমে যেয়ে শরীর চর্চা এবং স্কোয়াশও খেলেন।

পারিবারিকভাবেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। তার পিতা ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তাই সামাজিক চ্যারিটি কাজের পাশাপাশি বেশ কিছু রাজনৈতিক কাজও দেখাশোনা করছেন।

ক্লায়েন্টদের সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইন ব্যবসায় নতুন তারকার মত জ্বলজ্বল করছে সামিরের নাম। তার মত এমন কিছু দায়িত্বশীল ব্যাক্তি যদি দেশের কাজ করার জন্য এগিয়ে যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য খুব ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে।

Tousif Alam