হোয়ারটন স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন সায়মা চৌধুরী। আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তার। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক ইন্টিগ্রেডেট সোর্সিং কোম্পানি নই সলিউশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি তার কাজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন।

পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখেই সায়মা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল।সবসময়ই নিজে থেকে কিছু করার চেষ্টা ছিল তার।

সায়মার মুখ থেকেই শোনা গেল তার সাফল্যের কথা ,

saima-inside-300x205

‘ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট এবং নাইকিতে কাজ করার পর আমি বাংলাদেশের রিটেইলারদের পণ্য মেনুফেকচার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মার্কেট ফ্যাক্টরিকে সাহায্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তার পরের দুই বছর আমার ছোট বাচ্চা সেই সাথে নতুন শুরু হওয়া বিজনেস সামলাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে।বিজনেস ট্রিপে মাত্র ছয় মাস বয়সী ছেলেকে নিয়েও অনেক যায়গায় যেতে হয়েছে আমাকে।

নিজের ব্যবসা চালাতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি সব কিছু আসলে পরিকল্পনা মত চলবে না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করে যেতে হবে। প্রতিদিনই নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয় আমাকে।সমস্যা কিভাবে সমাধান করতে হয় সেটা নিয়েই আমাকেই চিন্তা করতে হয়।কাস্টমাররা কিন্তু এসব নিয়ে ভেবে দেখে না।

আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি অনেক প্রতিকূলতা সামলে কিভাবে একটি ফ্যাক্টরি চালাতে হয়। বাবাকে অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে দেখেছি।তার কাজ দেখেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।

২০১৪ সালের প্রথম তিন মাস দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক ছিল। কিন্তু সেই সময়ও আমাদেরকে নিজের ব্যবসা ঠিকভাবে চালাতে হয়েছিল। মানুষ নিরাপত্তার ভয়ে রাস্তায় বের না হলেও আমরা আমাদের কাজের প্রয়োজনে ঠিকই রাস্তায় চলাফেরা করতে হয়েছিল। সেই থেকে আমি শিখেছি ব্যবসা ভালভাবে চালাতে হলে দেশের পরিস্থিতিও ভাল থাকা দরকার।

এমন পরিস্থিতির এক মাস পর আমরা আমাদের কাস্টমারদের নিয়ে ভোটের সময়ের পরিস্থিতি কিভাবে সামলাতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। সে বছর আমারা সেরা কোম্পানি বেছে বেছে অল্প পরিমাণ কাজ করেছি। ক্লায়েন্টদের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে কাজ গুলোকে সাজিয়েছিলাম আমরা।

সেবছর দেশের এমন খারাপ পরিস্থিতিতে এক্সট্রা সময় খেটে নিজেদের কাজ শেষ করেছিলাম।নিরাপত্তার অভাবে রাতের বেলা পণ্য পরিবহন করতে হয়েছে আমাদেরকে। কিন্তু তারপরও আমরা আমাদের সব অর্ডার ঠিক সময়েই পৌঁছে দিতে পেরেছিলাম। যদি আমরা ঠিক মত পরিকল্পনা না করতাম তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটিই আর সময় মত শেষ করতে পারতাম না।

নিজে ব্যবসা চালাতে গিয়ে সারা পৃথিবীর পরিবর্তন সম্পর্কে বোঝা যায়।কিভাবে ব্যবসা চালাতে হয় সে সম্পর্কে কেউ সাহায্য করবে না।বরং নিজে থেকেই একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে’।

Tousif Alam