এইচএসসি বা এ লেভেল শেষ করে বেশিরভাগ তরুণরাই কোন সাবজেক্টে তাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করতে করতে অনেক সময় কুল কিনারা খুঁজে পান না।তবু এসবের মধ্য থেকে অনেকগুলো লোভনীয় ডিগ্রী আছে যেগুলো থেকে তারা বাছাই করতে পারেন তাদের পছন্দ মত সাবজেক্ট। ঠিক তার বিপরীতে ভাল চাকরি পেতে বেশ কিছু সাবজেক্টে পরা উচিত নয় বলেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অফ কলেজ এন্ড এমপ্লোয়ার্স(নেস)। এবার  একজনরে দেখে নেয়া যাক সেসব সাবজেক্ট সম্পর্কে।

১। ব্যাচেলরস ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস-

এই প্রতিবেদন পড়ার পর যারা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস নিয়ে পড়ছেন তারা আরেকবার চিন্তা করে দেখতে পারেন।কারন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস থেকে মাত্র ১৮% গ্র্যাজুয়েটকে চাকরি দেয়া হয় বলে প্রতিবেদনের তথ্যে উঠে এসেছে। কারণ চাকরি দাতারা মনে করেন, আইএনবি গ্র্যাজুয়েটরা শুধু গ্লোবাল বিজনেস সম্পর্কে ছড়ানো ছিটানো ধারণা নিয়ে থাকে। সাবজেক্টটিকে অনেক বেশী এককেন্দ্রিকও মনে করেন তারা।

তাছাড়া গ্লোবাল মার্কেট সম্পর্কে জানার জন্য শুধু টেক্সট বই পড়েই কাজ হয় না বরং বিশ্বব্যাপী বিজনেস পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া কোন চাকরিদাতা চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে সবসময় আঞ্চলিক-ভাবে অভিজ্ঞ-লোকদেরই নিয়োগ দেয়ার কথা চিন্তা করেন। সেক্ষেত্রে তারা তারা বর্তমান বিজনেস সম্পর্কে অভিজ্ঞদেরকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।কিন্তু আইএনবি মেজর করতে থাকা শিক্ষার্থীরা শুধু জানে এই মার্কেট কেমন হওয়া প্রয়োজন।

২। ব্যাচেলরস ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-

 

অনেকই রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে চাওয়ার কারণে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায়।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল রাষ্ট্র তাদেরকে বেশী টাকার চাকরি দিতে চায় না। কারণ সাধারণ ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীদেরকে আরও কম মূল্যে নিয়োগ করতে পারেন তারা।প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম মাত্র ৩২.৬% সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদেরকে নিয়োগ দিয়ে থাকে চাকরি দাতারা।

 

৩। ব্যাচেলর্স ইন এডভার্টাইসিং-

মার্কেটিংএ মেজর করার সময় এই সাবজেক্টটি যে কোন গ্র্যাজুয়েটরাই পড়ে থাকে।বিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেট বিস্তৃতির কারণে এখন এডভার্টাইসিং-এর ধারনাই পরিবর্তন হয়ে গেছে।এখন বিজ্ঞাপন দেখার ধরনও পরিবর্তন হয়ে গেছে।আর তাই বেশী মানুষকে আকৃষ্ট করতে অনেকেই এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপন দেয়া বাদ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন।তাই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী এই সাবজেক্ট থেকে মাত্র ৩৬.২% কে চাকরি দিয়ে থাকে চাকরি দাতারা।

 

৪। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-

দিন দিন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। আর তাই অনেকেই ব্যাচেলর ডিগ্রির পর এই সাবজেক্ট থেকে মাস্টার্স করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ এসব সেক্টরে ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিগুলো অনেক কম বেতনের চাকরির দেয় গ্র্যাজুয়েটদের।এদিকে, মাত্র ২২.৩% কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য নির্বাচিত হন বলেই প্রতিবেদনের তথ্যে উঠে এসেছে ।

Tousif Alam